হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইবেন না শেখ হাসিনা

রয়টার্স-এএফপি-ইন্ডিপেন্ডেন্টকে সাক্ষাৎকার

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম দিয়েছে, ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেতা’। এই শিরোনাম এসেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারকে ভিত্তি করে। গতকাল আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স, এএফপি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্টে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেত্রী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া লিখিত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য আত্মঘাতী। দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকার এবং বিবিসি বাংলা ও ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনাবোধ প্রকাশ না হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা না চাওয়ার মতো অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা পরবর্তী সরকারের নির্বাচনী বৈধতার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি কার্যকর রাজনৈতিক সিস্টেমে লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়—এমনই মত দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন দেশে ভবিষ্যতে বিভাজনের বীজ বপন করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, তার দল (নিষিদ্ধ ঘোষিত) অংশ নিতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আমলে তিনি দেশে ফিরবেন না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। রয়টার্সকে তার বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে শেখ হাসিনা ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া তিনি ‘আগাম নোটিস’ বা ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্থপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত’ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা বলেন, দিল্লিতে তিনি মুক্তভাবেই বাস করছেন।’ আরো বলা হয়েছে যে ‘কয়েক মাস আগে রয়টার্সের একজন সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে লোধি গার্ডেনে হাঁটতে দেখেছিলেন। তার সঙ্গে দুজন ব্যক্তি ছিলেন যাদের তার নিরাপত্তারক্ষী মনে হয়েছিল। তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যারা তাকে চিনতে পারছিলেন তাদের প্রতি তিনি মাথা নেড়ে সাড়া দিচ্ছিলেন।’ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তিনি বা তার পরিবারের কেউ থাকবেন কিনা এমন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় রয়টার্সের পক্ষ থেকে। তাদের এ জিজ্ঞাসার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার জবাব ছিল বিষয়টা আসলে তার কিংবা তার পরিবারের নয়।