স্মার্টফোনের দাম হবে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা

‎স্মার্টফোনের দাম কমিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি জানান, দেশে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। যেখানে একটি ফিচার ফোন ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যেই কেনা যায়, সেখানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ অবস্থায় ডিভাইসের খরচ কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আমি এখানে বসে যে একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করব, একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাওয়ালাও যেন গ্রামে বসে সাশ্রয়ী মূল্যে সেই একই সুবিধা পায়।’ এ জন্য মোবাইল বিক্রেতা, মোবাইল উৎপাদনকারী, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, স্মার্টফোন সহজলভ্য করা গেলে ডিজিটাল বিভাজন কমবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে। এ লক্ষ্যে ডিভাইসের কর কাঠামোসহ পুরো ভ্যালু চেইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। মোবাইল রিচার্জে অতিরিক্ত কর নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, ১০০ টাকার রিচার্জে ৩৮ টাকা কর হিসেবে কেটে নেওয়া যৌক্তিক নয়। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে এই কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রেহান আসিফ আসাদ আরও বলেন, গ্রাহকেরা অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না, যা সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা। তাই সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানো প্রয়োজন।

সেমিনারে টেলিযোগাযোগ খাতের দেশীয় উদ্যোক্তারা নতুন নীতিমালায় বিদেশি বিনিয়োগকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, খাতটিকে আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আলোচনা চলছে। এতে লাইসেন্স সংখ্যা কমানো, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ রাখার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে, স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন, বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন বাড়তে পারে এবং ডেটা নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় জাতীয় স্বার্থ, ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং স্থানীয় বিনিয়োগ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

নীতিমালার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের গুরুত্ব উল্লেখ করে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নীতিমালা নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা স্বাভাবিক, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করলে তা পুরো শিল্প খাতকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্যভিত্তিক মতামত ও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনা জরুরি। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।

টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। আরও বক্তব্য দেন— ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম, ফাইবার অ্যাট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার প্রমুখ।