চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ। গত মঙ্গলবার শুনানি শেষে চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন এবং হাইকোর্টকে সংশ্লিষ্ট রুলটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করার নির্দেশও দেন। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে আর কোনো আইনগত বাধার মুখে নেই। রোববার (৩০ নভেম্বর) এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে নতুন ট্যারিফ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ল সোসাইটি (বিএমএলএস) গত ১৪ সেপ্টেম্বরের ট্যারিফ গেজেট ও ৩০ সেপ্টেম্বরের সার্কুলার চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দাখিল করেছিল। রিট আবেদনের পর হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৯ নভেম্বর নতুন ট্যারিফ এক মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং কেন এটি বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে একটি রুল জারি করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ অক্টোবর থেকে গড়ে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি করে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়— এমন তথ্য রিট আবেদনে আদালতকে জানানো হয়। গত মঙ্গলবার চেম্বার জজ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশকে ‘ডিসপোজড অ্যান্ড স্টে ভেকেটেড’ ঘোষণা করেন। বিএমএলএস সভাপতি মহিউদ্দিন আব্দুল কাদির সাংবাদিকদের বলেন, আগে স্থগিতাদেশ থাকলেও চেম্বার জজ এখন তা প্রত্যাহার করেছেন এবং রুলটি দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তর থেকে গত রোববার (৩০ নভেম্বর) জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ-সংক্রান্ত নোটিফিকেশনটি আর কার্যকর নয়। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের ট্যারিফ অন গুডস অ্যান্ড ভেসেলস এটসেটরা ফর চিটাগাং পোর্ট-২০২৫ বহাল রয়েছে। এতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন ট্যারিফ আদায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
