‘অনিয়মের’ মাধ্যমে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি-এর সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমানে কারাবন্দি ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে দুটি পৃথক মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি জানান, অনুমোদিত দুটি মামলার মধ্যে একটিতে রাশেদ খান মেননসহ ১৩ জন শিক্ষকসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর মামলায় তাঁসহ ৩৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি-এর সভাপতি মেননকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রথমে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিক কারাগারে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলাতেও তাঁকে আসামি করা হয়েছে।
মেননের বিরুদ্ধে দুদক প্রথম যে মামলার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘অনিয়ম ও প্রতারণার’ আশ্রয়ে ‘উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে’ নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করে কেবল পূর্বপরিচিত ১৩ জন প্রার্থীকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্তে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, বিধি অনুযায়ী বিশেষ গভর্নিং কমিটির নিয়োগ দেওয়ার কোনো ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও তারা এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিয়োগ বোর্ডে কোনো ডিজি বা তার প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক রাখা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত এনটিআরসি সনদ ছাড়াই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ পরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই টেবুলেশন শিট প্রস্তুত ও নিয়োগপত্র বা যোগদানপত্র ইস্যু করা হয়।এসব ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

