সোনামসজিদ স্থলবন্দরে স্থবিরতা, বেড়েছে ট্রাকের ভাড়া

জ্বালানি সংকট

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে এ রুটে ট্রাক চলাচল প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, ফলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে ট্রাকচালকরা ভাড়া ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্দরের পাশের কয়লাবাড়ি ট্রাক টার্মিনালে শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। জ্বালানি সংকটে চালকেরা নিয়মিত ট্রিপ ধরতে না পারায় বন্দরের কার্যক্রমে স্পষ্ট স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় ট্রাক মালিক ও চালকরা জানান, ডিজেলের ঘাটতি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ট্রাকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে টার্মিনালে দাঁড়িয়ে আছে। এতে ট্রিপ করতে না পারার কারণে ভাড়া বেড়েছে, যা সরাসরি পণ্য পরিবহন এবং বাজার মূল্যে প্রভাব ফেলছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাথর সরবরাহ করেন আলমঙ্গীর জুয়েল। তবে গত কয়েকদিন ধরে তার ব্যবসা মন্দার মুখোমুখি। কারণ তেলের ঘাটতি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ট্রাক সঠিক সময়ে পাওয়া যাচ্ছে না।

এর প্রভাবে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাড়া বেড়ে প্রায় ১০–১৫ শতাংশ হয়েছে, যা ব্যবসায়িক খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আলমঙ্গীর জুয়েল জানান, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে সরবরাহ ও পণ্যের দাম আরও প্রভাবিত হতে পারে। আরেক ব্যবসায়ী সাঈদি হোসেন বলেন, বন্দরে পণ্য জমে থাকলেও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না; আর পাওয়া গেলেও ভাড়া অনেক বেশি। তিনি জানান, আগে সোনামসজিদ থেকে ঢাকায় একটি ট্রাক ভাড়া ছিল ৩২–৩৩ হাজার টাকা, যা এখন প্রায় ৮ হাজার টাকা বেড়ে ৪০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কয়লাবাড়ি ট্রাক টার্মিনালে বসে অলস সময় পার করছেন ট্রাক চালক শহিদুল। তিনি জানান, এখন একটি ট্রিপ করার জন্য অন্তত ৯০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন, কিন্তু তারা মাত্র ৫০ লিটার পাচ্ছেন, এবং তা পেতে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। শহিদুল বলেন, আমরা দুইদিন তেল সংগ্রহ করে একটি ট্রিপ সম্পন্ন করতে পারি। এই কারণে ভাড়া যেমন বেড়েছে, তেমনি আমাদের আয়ও কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে খুব ভোগান্তির মুখে পড়েছে। এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা ভালো না। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করা এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও কার্যক্রম স্থগিত হয়নি, তবুও জ্বালানি সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। বিজিবি ভারতীয় ট্রাকে জ্বালানি তেলের পরিমাণ যাচাই করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এভাবে সীমান্তবর্তী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে কিছুটা বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।