সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির লক্ষ্য

সেমিকন্ডাক্টরের বৈশ্বিক বাজারে অংশ বাড়ানো এবং এ খাত থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিই এ খাতের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ সংক্রান্ত রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তাদের প্রত্যাশা, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারে পৌঁছাবে এবং বাংলাদেশ বৈশ্বিক ‘চিপ’ বাজারে একটি শক্তিশালী হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

রাজধানীর বিজয় সরণির নভো থিয়েটারে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইআর সামিট ২০২৬’। আয়োজকদের মতে, দেশে এ ধরনের এটি দ্বিতীয় আয়োজন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ‘ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’-এরও উদ্বোধন করবেন। বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিক্স—এই চার খাতের সমন্বিত উন্নয়নকে সামনে রেখে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলন সামনে রেখে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এম. আনোয়ার হোসেন জানান, সরকার বিজ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে একটি উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। এই ইকোসিস্টেম মেধার পাইপলাইন তৈরি, বাজারমুখী গবেষণা, উদ্ভাবন বাজার এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি–এ চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন, বিসিএসআইআর ও পরমাণু শক্তি কমিশনের আধুনিক ল্যাবগুলো গবেষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ বছরের সামিটের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে যাওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে চাই।

সিলিকন রিভার বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন বলেন, এই সামিটে বিশ্বখ্যাত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ যোগ দিচ্ছেন। দেশে এ বছরের সামিটে ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার আগ্রহী নিবন্ধন করেছেন। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের বৃহত্তম কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শো-তে নিজস্ব প্যাভিলিয়ন নিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নেবে।

বিএসআইএর সভাপতি এম. এ. জব্বার দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১,২০০ প্রকৌশলী কাজ করছেন এবং এ খাত থেকে বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় এক কোটি ডলার। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক রোডশোগুলোর প্রভাবে চলতি বছরে এই রপ্তানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যা এ খাতে বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করবে। দুই দিনব্যাপী এই সামিটে সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি উদীয়মান গবেষকদের জন্য ‘ক্রেস্ট ফেলোস রিসার্চ সিম্পোজিয়াম’-এর আয়োজন রাখা হয়েছে। সমাপনী দিনে ‘বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ট্যালেন্ট রোডম্যাপ ২০৩০’ এবং ‘ব্রেইনগেইন ২.০’সহ মোট আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।