সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত কমিশন

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় এবং কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন বিদেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্রিফিং আয়োজন করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

সিইসি বলেন, স্বচ্ছতা নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ২২০ জন। এছাড়া ১৬০ জনের বেশি বিদেশি সাংবাদিক স্বাধীনভাবে নির্বাচন কভার করছেন। জাতীয় পর্যায়ে ৮১টি নিবন্ধিত বাংলাদেশি সংস্থার ৪৫ হাজারেরও বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। সিইসি জানান, সব অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে গোপন ভোটিং কম্পার্টমেন্টের গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে। পর্যবেক্ষকরা ইসির নির্দেশনা মেনে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবং নির্বাচনের পর তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারবেন। সিইসি বলেন, ‘সাংবাদিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, যার মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করা যায়। আপনাদের অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে অর্থবহ।’

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি সমন্বিত এবং বহুমাত্রিক ছিল, যার মধ্যে আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং অপারেশনাল পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।’ তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে কাঠামোগত সংলাপ বজায় রেখেছে যাতে আস্থা, অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়ে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি সমর্থিত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বিদেশ থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সীমিত প্রস্তুতি ও সংক্ষিপ্ত প্রচারণার মধ্যেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন বলে তিনি জানান। দেশের ভেতরে যোগ্য ভোটারদের জন্যও পোস্টাল ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালট ডাকযোগে ফেরত এসেছে। সিইসি জানিয়েছেন, নির্বাচনের দিন সব ধরনের অপারেশনাল প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে একাধিক যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী সামগ্রী, সহ ব্যালট পেপার, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তা কেন্দ্রগুলিতে পাঠানো হচ্ছে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আজ ও আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ আগামীকাল সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। প্রিজাইডিং অফিসাররা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের সহযোগিতায় ভোটগ্রহণ ও গণনা পরিচালনা করবেন। কেন্দ্রে প্রার্থী বা তাদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।