সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

‎বেসরকারি ঋণের বৃদ্ধি লক্ষ্য রেখে এবং নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশ করেন। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেওয়া এবং বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুবার (‘জানুয়ারি-জুন’ ও ‘জুলাই-ডিসেম্বর’ সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার (রেপো) ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশে নির্ধারণ করে। মূলত, ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ বন্ধক রেখে রেপোর বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, নতুন মুদ্রানীতিতে আন্তব্যাংক ধার নেওয়ার ক্ষেত্রে নীতি সুদহার স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। এ ছাড়া স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে টাকা রাখার ক্ষেত্রে এ সুদহার প্রযোজ্য হয়। গভর্নর বলেন, ‘আমরা চাই ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা না রেখে বিনিয়োগে যাক। তাই এসডিএফ কমানো হয়েছে; আগামীতে আরও কমানো হবে।’

বেসরকারি খাতে ঋণের পূর্ববর্তী মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা দেখে নতুন ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.১ শতাংশ, এবং আগামী জুন পর্যন্ত এই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে ৮.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, সরকারি খাতেও পূর্বের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ কিছুটা কম হয়েছে। নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ২১.৬ শতাংশ ধরা হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরে লক্ষ্য ছিল ২০.৫ শতাংশ, কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৮.৯ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছিল।

This will close in 5 seconds