ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, সেই সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। সেমাই, চিনি, মসলা ও সুগন্ধি চালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে অনেক ক্রেতাই হতবাক হচ্ছেন। ঈদকে ঘিরে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি চাল, সেমাই, চিনি, দুধ ও নানা ধরনের মসলা। বাড়তি চাহিদার কারণে গত কয়েকদিনে প্রায় সব পণ্যের দামেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল কিনতে ক্রেতাদের কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। কোম্পানিভেদে কালিজিরা ও চিনিগুঁড়া চালের এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। অন্যদিকে খোলা চাল পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুগন্ধি চালের প্রতি কেজির দর ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ থেকে ১৩০ টাকা। সে হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। এরমধ্যে গত এক মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ। খুচরা বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম সেমাই ৪০-৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা, আলাউদ্দিন সুইটের ৫০০ প্যাকেট সেমাই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম অলিম্পিয়া সেমাই ২৮০ থেকে ৭০০ টাকা, ২০০ গ্রামের বনফুল ও কুলসন সেমাই প্যাকেট ৪৫ টাকা। এছাড়া খোলা লম্বা সেমাইয়ের কেজি ৯০ টাকা এবং লাচ্ছার কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কেজিপ্রতি বিদেশি চিনি ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার শুরুতেও যা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর দেশি চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় পণ্যটির দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলার দামও গত কয়েকদিনে বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে সবচেয়ে দামি মসলা এলাচ, যার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫ হাজার টাকা। দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকায়। অন্যান্য মসলার মধ্যে জয়ত্রি কেজিপ্রতি ৪ হাজার টাকা এবং জায়ফল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। জিরা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এদিকে কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সুযোগে খোলা তেলের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২১৫ থেকে ২২০ টাকায় উঠেছে। তবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। পেঁয়াজ, আলু, লেবু, শসা ও বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে ঈদকে ঘিরে লেবুর দাম কিছুটা বেশি রয়েছে। প্রতিহালি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
