সিলেটে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের আশা

ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেট। ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি সামনে রেখে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সবুজ চা-বাগান, পাহাড়, ঝরনা, পাথরঘেরা নদী ও স্বচ্ছ জলরাশি। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শুষ্ক চা-বাগান, ঝরনা ও পাথরের নদীগুলো নতুন রূপে সেজে উঠেছে, যা বাড়িয়ে দিয়েছে এ অঞ্চলের সৌন্দর্য।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সিলেটের প্রায় ৮৫ শতাংশ আবাসিক হোটেল ও মোটেল বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, এবারের ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম হবে। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে এতে চাঙা হবে পর্যটন খাত, আর ব্যবসা হতে পারে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সিলেটের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, উৎমা ছড়া, তুরুং ছড়া, জৈন্তাপুরের লালাখাল, পান্তুমাই ঝরনা এবং নগরীর চা-বাগানগুলো এখন আরও প্রাণবন্ত। পাথর আর স্বচ্ছ জলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব মায়াবী পরিবেশ। এ ছাড়া শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। সব মিলিয়ে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের কখনোই হতাশ করে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর সিলেটের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রের বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনার পর এবার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার জেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে সিলেটে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান-বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট পর্যটকদের কাছে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হবে। গোয়াইনঘাটের রাতারগুল জলাবনসংলগ্ন (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুল গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে রাতারগুলে পর্যটক বরণে আমরা প্রস্তুত। রাতারগুলের তিনটি ঘাট মিলে ২০০-২৫০টি নৌকা রয়েছে।’

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেটের সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ‘সিলেটের ৮৫ ভাগ আবাসিক হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। দেড় বছর ধরে দেশের নানা সিলেটের পর্যটন খাত জমে ওঠেনি। তবে এবার জমে উঠবে পর্যটন খাত। আমরা আশা করছি, ১০০-১৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে সিলেটের পর্যটন খাতে। ঈদের সময়ে সিলেটে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের উপস্থিতি ঘটবে বলে আশা করছি।’ সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, ঈদ উপলক্ষে সিলেটের হোটেল-মোটেল পুরোপুরি পর্যটকে পূর্ণ হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, সিলেটে পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বৈঠক হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।