সিকিমে এক রাতে ১৩ বার ভূমিকম্প, কাপল বাংলাদেশও

গেল রাতে সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতের সিকিমে মোট ১৩টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এসব কম্পনের প্রভাব বাংলাদেশেও টের পাওয়া গেছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে (ভারতীয় সময়) সিকিমের গেলসিং এলাকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে।

মূল ভূমিকম্পের পরপরই শুরু হয় একের পর এক আফটারশক। মঙ্গন এলাকায় ৭টি এবং নামচিতে ৪টি ছোট কম্পন রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া গ্যাংটকে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প ধরা পড়ে। টানা এই কম্পনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু পর্যটক মাঝরাতে হোটেল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে কম্পন অনুভূত হলে দুই জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়াল পাড়া এলাকার স্থানীয় সাগর, সুমন ও নিরব ঢাকা পোস্টকে জানান, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের স্থায়ীত্ব ছিল অল্প সময়ের, ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গীসহভজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কথা জানা গেছে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয় নেটিজেনরা। তবে কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

This will close in 5 seconds