ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানি নিবন্ধনের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা এবং আবেদন জমা থেকে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন। এবারের বাজেটে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে বিনিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও কার্যকর করা।
ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময়, ব্যয় ও অনিশ্চয়তা কমাতে অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অনলাইনভিত্তিক সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আবেদন জমা থেকে লাইসেন্স প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, কোনো অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা মতামত, অনাপত্তি, ছাড়পত্র বা নাদাবি সনদ প্রদান না করলে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সেটিকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করে আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়াও দ্রুততর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, কোম্পানি নিবন্ধনের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের ওয়ার্ক পারমিট সাতদিনের মধ্যে এবং বিনিয়োগকারী ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আইনি সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির পরিধি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার চুক্তিগুলো হালনাগাদ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প-সুবিধা প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে উদ্যোক্তারা দ্রুত কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
এছাড়া বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়াও পৃথকভাবে অনলাইনভিত্তিক এবং নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী। তিনি ব্যবসা সহজীকরণের সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কারেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। যা আগামী দিনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও উন্নত করবে।
