সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৫ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোনো মামলা, যেটিতে অভিযোগ গঠন করা হলো। ৩৬ জন আসামির মধ্যে ৮ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তারা এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফোরমান উল্লাহ চৌধুরীর নামে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি কাগুজে (শেল) প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী হুন্ডির মাধ্যমে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করেন এবং কর্মচারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্পদ ক্রয় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মসাতের ঘটনাটি ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঘটে।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্ত্রী ও ইউসিবির সাবেক চেয়ারপারসন রুকমিলা জাহান। অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জাহান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জাহান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জুনায়েদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ রফিকুজ্জামান, ইউনুস আহমেদ, হাজী আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী।

এ ছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, আব্দুল হামিদ চৌধুরী, আব্দুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান, মীর মেসবাহ উদ্দিন হোসেন ও বজলুল আহমেদ বাবুলের নাম রয়েছে। আরামিট গ্রুপের ১৪ জন কর্মচারীসহ এজিএম উৎপল পাল, প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, মো. জাহিদ, মো. শহীদ, মো. সুমন, ইলিয়াস তালুকদার এবং ওসমান তালুকদারও এই মামলায় অভিযুক্ত। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এ বছরের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুরুতে ৩১ জন আসামি থাকলেও তদন্তে আরও ৭ জনের নাম আসায় মোট ৩৮ জন হয়। তবে মূল আসামিদের মধ্যে ২ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিয়ে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এই মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।