মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। এ নীতির আওতায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমানো ও কিছু ব্যয় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর স্থগিত এবং সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ রাখা।
রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, পাবলিক সেক্টর কর্পোরেশন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সংশোধিত বাজেটের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু খাতে ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অবশিষ্ট অর্থবছরের জন্য কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের স্থল, নৌ ও আকাশযান ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যয় স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণও বন্ধ রাখা হয়েছে। সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে মোট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমতি থাকলেও, আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া আপ্যায়ন খাতে অব্যবহৃত অর্থেরও সর্বোচ্চ অর্ধেক ব্যয় করা যাবে। একই নিয়ম মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও প্রযোজ্য হবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর ক্ষেত্রে এ সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়সহ কয়েকটি খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যয় করা হলে ভবিষ্যতে কোনো বকেয়া দাবি গ্রহণ করা হবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়ও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভবন নির্মাণ খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যয় করা যাবে। অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন খাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য রেখে অবশিষ্ট অর্থের সর্বোচ্চ অর্ধেক ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ব্যয় করা যাবে। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম সুবিধাও স্থগিত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে শুরু হওয়া অতিমারি করোনা, ২০২২ সাল থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই দেশে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনায় খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। এ কারণে গত কয়েক বছর ব্যয় সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে সময়ে সময়ে এ পদক্ষেপ শিথিল করা হয়।
