সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন ৫ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সোমবার তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে নিয়োগের মাত্র দুই দিন পরই দায়িত্ব পালনে অসুবিধা থাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন ব্যাংকের এমডি। চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া জানান, একান্ত ব্যক্তিগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর সরকার তাঁকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তিনি সাবেক সরকারি সচিব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে আহসান এইচ মনসুর ব্যাংক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়ার পথে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে আমানতের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে। পরে এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

নতুন ব্যাংকটি মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের মধ্যে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় ৭৮ লাখ আমানতকারীর আমানত বিমা তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা করে মোট ১২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, নিয়োগ পাওয়ার মাত্র দুই দিন পরই দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও পদে নিয়োগপ্রাপ্ত নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দেওয়া একটি চিঠিতে তিনি জানান, একান্ত ব্যক্তিগত কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এমডি পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সম্মতির কথা জানিয়েছিলেন। যোগদানের তারিখ থেকে তাকে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।