সব টেন্ডারে বাধ্যতামূলক ই-জিপি চালু

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে সব টেন্ডারে বাধ্যতামূলকভাবে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য আইন সংশোধন করে উন্মুক্ত ও সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে বিদ্যমান শতাংশ সীমা বিলোপ করে ই-জিপির আওতায় আনতে বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রস্তাবিত ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ খসড়ার বিষয়ে আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আইন) জাহেদা পারভীন।

বিপিপিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে সরকারিভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়, যার ৬৫ শতাংশ বর্তমানে ই-জিপিতে হয়। এই সরকারি কেনাকাটা ৯৫ শতাশের বেশি ই-জিপিতে নিয়ে যেতে চায় সরকার।

সভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা আশফাকুর রহমান বলেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় আরো গতিশীলতা আনতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অর্থসচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির সুপারিশের আলোকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ সংশোধনের জন্য একটি খসড়া অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য প্রেরণ করা হলে খসড়াটি সংশোধনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিপিপিএতে ফেরত পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সহযোগী নীতি ঋণের (ডিপিসি) আওতায় দেশের আর্থিক রাজস্ব ও জনসেবা খাতে নানা পলিসি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে একটি পলিসি ম্যাটিক্স প্রণয়ন করা হয়।

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উন্মুক্ত দরপত্রের ১০ শতাংশ মূল্যসীমা প্রত্যাহার, ক্রয়কারীর মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং ই-জিপি ব্যবহারের বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের বিষয়ে একটি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হলেও তাদের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির পরিচালক নাসিমুর রহমান শরীফ জানান, সরকারি ক্রয় আইনে পণ্য, কার্য ও ভৌত সেবা ক্রয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিজাত সেবা ক্রয়ে দেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে যৌথ অংশীদার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের ১০ শতাংশ বিধান বিলোপ এবং ই-জিপি ব্যবহারের বাধ্যতামূলক বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটির সভাপতি জাহেদা পারভীন জানান, অভ্যন্তরীণ কার্য ক্রয়ে ১০ শতাংশ এবং সীমিত দরপত্র পদ্ধতির ৫ শতাংশ বিধান বিলুপ্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে এটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে (এসিসিইএ) উপস্থাপন করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জানান, ই-জিপি চালুর ফলে টেন্ডার বক্স ছিনতাই ও সংঘর্ষ কমেছে, তবে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কেনাকাটায় দুর্নীতি কমানো। অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

This will close in 5 seconds