চলতি অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। অনেক করদাতা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করায় এ খাতে কর রেয়াতের সুবিধা পান। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কাটা কর রিটার্ন জমার সময় সমন্বয় করা যাবে। করযোগ্য আয় না থাকলে করদাতারা ওই অর্থ ফেরতও পেতে পারেন। তবে সারা বছরে উৎসে কত কর কাটা হয়েছে তা সমন্বয়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রমাণপত্র প্রয়োজন হবে, আর এ সুবিধা নিশ্চিত করতে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
সংস্থাটি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কাটা করের প্রত্যয়নপত্র জেলা সঞ্চয় অফিস, ব্যুরো ও বিশেষ ব্যুরো অফিস থেকে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, মুনাফার বিপরীতে যে কর বা অগ্রিম কর কেটে রাখা হয়েছে, তার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্রের স্থানীয় কার্যালয়ে যেতে হবে। এ বছর থেকে সারা বছরজুড়েই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন জমা দিলে করছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।
এদিকে আগামী ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের নির্ভরতা বিবেচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কাটা উৎসে করকে চূড়ান্ত দায় হিসেবে না রেখে বছর শেষে সমন্বয় বা ফেরত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে অগ্রিম কর ফেরত পাবেন
এবারের বাজেট অনুসারে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়, তা চূড়ান্ত কর দায় নয়। বছর শেষে তা সমন্বয় করা যাবে। যদি ওই করদাতার প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর কেটে রাখা হয়, তাহলে তা ফেরত পাওয়া যাবে। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, একজন করদাতার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বছরজুড়ে ৩০ হাজার টাকা অগ্রিম কর কেটে রাখা হলো। কিন্তু বছর শেষে ওই করদাতা রিটার্ন জমার সময় দেখলেন, নানা ধরনের ছাড়ের পর তাঁর বার্ষিক করের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। তাহলে তিনি বাকি ১০ হাজার টাকা ফেরত পাবেন।
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে রাখা অগ্রিম কর ফেরত পেতে হলে করদাতাকে অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক। ফলে যেসব ছোট বিনিয়োগকারীর করযোগ্য আয় নেই, তাঁদেরও টিআইএন নিয়ে বছর শেষে রিটার্ন দাখিল করে কাটা অগ্রিম কর ফেরত নিতে হবে। রিটার্ন জমার সময় ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করে টাকা ফেরতের আবেদন করতে হবে এবং উৎসে কর কাটার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এরপর কর কর্মকর্তারা যাচাই–বাছাই করে ১২০ দিনের মধ্যে প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেবেন। বর্তমান আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রের ওপর অগ্রিম করের হার ১০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে।
