২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য লভ্যাংশ-সংক্রান্ত অতিরিক্ত করের শাস্তি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে লভ্যাংশ আয়ের ওপর কোম্পানির করের বোঝা চাপানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কোম্পানির জন্য লভ্যাংশ আয়ে ২০ শতাংশ কর বাতিল করে নিয়মিত করহার আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানিগুলোকে ২০ শতাংশ না, যে কোম্পানি যে হারে কর প্রদান করে, সেই হারেই লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর দিতে হবে। এতে করে কোম্পানিগুলোকে লভ্যাংশ আয়ের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা বইতে হবে।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিট মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করতে হয়। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে অবণ্টিত মুনাফা বা রিটেইন আর্নিংসের পুরো অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। তবে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে এই অতিরিক্ত করের শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রস্তাবে রিটেইন আর্নিংসের সম্পূর্ণ অংশের পরিবর্তে শুধু ঘোষিত লভ্যাংশ এবং নির্ধারিত ৩০ শতাংশের ঘাটতির অংশের ওপরই ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপের কথা বলা হয়েছে।
যেমন, কোনো কোম্পানি যদি মুনাফার ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তাহলে নির্ধারিত ৩০ শতাংশের তুলনায় ঘাটতি থাকবে ২০ শতাংশ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই ২০ শতাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। বর্তমান আইনে অবশ্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট ৯০ শতাংশ রিটেইন আর্নিংসের পুরো অংশের ওপরই অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হয়। বোনাস লভ্যাংশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালার মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি কোনো অর্থবছরে নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারে না। নগদের তুলনায় বেশি বোনাস শেয়ার দিলে অতিরিক্ত অংশের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়।
