জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ও তার স্ত্রী তাহেরা সোবহার বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। একই সঙ্গে তাদের তিন ছেলের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যশোর-১ আসনের সাবেক এমপি আফিল উদ্দিনকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারগো গার্মেন্টের কর্মকর্তা সোহান শাহ হত্যা মামলায় আসামি তিনি। আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই রামপুরায় সিএনজি স্টেশনের সামনে গুলিতে আহত হন ৩০ বছর বয়সী সোহান শাহ। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ অগাস্ট তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের নামে ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি করা হয়েছিল।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, আফিল উদ্দিনের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও ব্যয় হিসাব করে মোট ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকার আয়ের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া গেছে। দুদক কর্মকর্তা বলেন, শেখ আফিলের বিরুদ্ধে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
আক্তার হোসেন বলেন, শেখ আফিল উদ্দিনের স্ত্রী তাহেরা সোবহার নামে ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকা আয়ের বৈধ উৎস। অনুসন্ধানের বরাতে তিনি বলেন, ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় তাহেরা সোবহার বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
