শূন্য হয়ে গেল জাপা

গত তিনটি আলোচিত ও বিতর্কিত নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে কার্যত শূন্য ফল করেছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলটি ১৯৫টি আসনে প্রার্থী দিলেও কোনো আসনে জয় তো দূরের কথা, দ্বিতীয় স্থানেও থাকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় নৌকার ভোট পেয়ে জাপা ভালো ফল করবে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের ‘ডামি ভোট’খ্যাত নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ২৬টি আসন সমঝোতার মাধ্যমে নিয়ে অংশ নেয় জাপা। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ১৫টি আসনে হেরে যায় তারা। অবশিষ্ট ২৩৯টি আসনের মধ্যে দুটি ছাড়া সবগুলোতেই লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীদের জামানত হারাতে হয়। তবুও সে সময় জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসে এবং জি এম কাদের বিরোধী দলীয় নেতা হন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের সমালোচকের ভূমিকায় ছিলেন জি এম কাদের। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি ও তাঁর দল ইউনূস সরকারকে সমর্থন করে। কিন্তু অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব জাপাকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে সরকারি বৈঠকে ডাকার বিরোধিতা করে। তাঁর দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি তোলে জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ। সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতে এবার নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছিল জাপা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়। ভোটের মাঠে নেমে বারবার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করে। লাঙ্গলের পাশাপাশি ‘না’ ভোটের প্রচার চালায়। দলটি ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৪, কুড়িগ্রাম-১, রংপুর-৩, গাইবান্ধা-১ আসনে জয়ী হওয়ার আশা করেছিল। ফল আসার পর দেখা যায় অন্য সব আসনের মতো এগুলোতেও হেরেছে জাতীয় পার্টি। কোথাও দ্বিতীয় হতে পারেনি। জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রংপুর-৩ আসনে হারেনি লাঙ্গল। এবার ৩৩ হাজার ভোট পেয়ে জামানত জব্দ হতে যাচ্ছে জি এম কাদেরের।

গাইবান্ধা–১ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন; তাঁরও জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি কুড়িগ্রাম–১ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রেও। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়াই জাতীয় পার্টির জন্য প্রাথমিক সাফল্য। ফ্যাসিবাদের দোসর তকমা ও আওয়ামী লীগ আমলে দলের ভূমিকার কারণে এমন ফল হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে জাপাকে কোথাও দ্বিতীয় স্থানেও আসতে দেওয়া হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটের ফলাফলই তার প্রমাণ। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় পার্টি শূন্য হয়ে যায়নি; সংসদে প্রতিনিধিত্ব না থাকলেও দলটি রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াবে।

This will close in 5 seconds