শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিগগিরই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কবে নাগাদ চালু হবে এটা বলা যাবে না। আলাপ-আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কীভাবে তাড়াতাড়ি চালু করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া যাবে না।’ আফরোজা খানম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারও দফায় দফায় চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত থার্ড টার্মিনাল চালু হয়নি। মূলত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অপারেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পারা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরে কিছু কাজের কারিগরি ত্রুটির জন্যই এই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি।’

জাপানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল সহসাই চালু হচ্ছে না। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। শুরুতে নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা, পরে অতিরিক্ত ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই টার্মিনালটির উদ্বোধন করা হয়।

প্রকল্পটির নির্মাণব্যয়ের বড় জোগান দিচ্ছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। সংস্থাটি ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আর বাকি ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালের অ্যাপ্রোন বা পার্কিংয়ে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার ব্যবস্থা থাকবে। যুক্ত হবে নতুন ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১টি বডি স্ক্যানার আর ১৬টি লাগেজ বেল্ট। এ ছাড়া থাকবে স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা। গাড়ি পার্কিংয়ে রাখা যাবে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই টার্মিনাল চালুর পর বাড়বে ফ্লাইট সংখ্যা ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা। আমদানি কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ৮৪ হাজার টন থেকে বেড়ে হবে পৌনে ৩ লাখ টনে। পাশাপাশি রপ্তানি কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ২ লাখ টন থেকে বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৫ লাখ টনে।