লিফটের ওপর বাড়তি শুল্ক–কর বতিলের দাবি

বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর ও লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে লিফটকে মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর ওপর থাকা অতিরিক্ত শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি এমদাদ উর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত লিফটকে মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে আমদানি করা হতো, যার ওপর আমদানি শুল্ক ছিল ন্যূনতম। তবে হঠাৎ করে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে লিফটকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, ফলে শুল্ক ও কর অনেক বেড়ে যায়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন রাস্তায় নামে, কিন্তু তাদের দাবি তৎকালীন সরকার আমলে নেয়নি।

বেলিয়ার নেতারা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে লিফটকে এখনও বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে রাখা হয়েছে এবং কর হার আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন লিফটের ওপর ১৫% আমদানি শুল্ক, ৫% অগ্রিম আয়কর, ৫% অগ্রিম কর এবং নতুনভাবে ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে মোট শুল্ক-কর হয়েছে ৪৩%, যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৫.৭৫% ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে আমদানি পর্যায়ে লিফটের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ও কর দিতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবসম্মত করা জরুরি।

সংগঠনের সভাপতি এমদাদ উর রহমান বলেন, লিফট বিক্রি ও চুক্তি সম্পাদনের পর উৎপাদন ও আমদানি পর্যন্ত অনেক সময় লাগে। চলতি জুনের আগে ক্রয়াদেশ, ঋণপত্র খোলা, প্রস্তুতি, জাহাজীকরণ ও শুল্কায়নের অবস্থায় হাজার হাজার লিফট প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই লিফটগুলো আগের ২৫.৭৫ শতাংশ শুল্কহারে বিক্রি হয়েছে। এখন যদি তাদের জন্য নতুন নির্ধারিত ৪৩ শতাংশ শুল্ক–কর দিতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই জুনের আগে প্রক্রিয়াধীন লিফটগুলোর জন্য আগের শুল্ক–কর হার বজায় রাখার জোর দাবি করেন তিনি।

বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম বলেন, দেশের আবাসন খাতে লিফট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অতিরিক্ত শুল্ক–কর আরোপের কারণে লিফটের দাম অনেক বৃদ্ধি পাবে, যা ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। এতে পুরো আবাসন খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও হাজার হাজার কর্মীও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই তিনি বাজেট অনুমোদনের আগেই লিফটের বাড়তি শুল্ক–কর প্রত্যাহার করে আগের মতো মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছেন।

This will close in 5 seconds