রেয়াতি সুবিধার অপব্যবহার, আমদানি হচ্ছে এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন!

হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড

** শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয়ভাবে এসি উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা নিলেও সিবিইউ অবস্থায় আমদানি করছে এসি
** ভিআরএফ এসিকে ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণায় আমদানি, বিপুল পরিমাণ শুল্ককর ফাঁকির শঙ্কা
** এসি শিল্পে নীতি-সুবিধার অপব্যবহারে রাজস্ব ক্ষতি ও স্থানীয় শিল্পে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
** স্থানীয়ভাবে ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিন উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা নিলেও দেদারসে আমদানি করছে হায়ার

স্থানীয়ভাবে এসি উৎপাদনে শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয় রেয়াতি সুবিধা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসিতে রেয়াতি সুবিধা নিচ্ছে। আবার আমদানি করা এসিতেও রেয়াতি সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, শিল্পের ক্যাপিটাল মেশিনারি ও যন্ত্রাংশ ঘোষণায় সম্পূর্ণ বা আস্ত এসি আমদানি করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় এসি উৎপাদন শিল্পে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। শুধু এসি নয়, ফ্রিজ ও হাউজহোল্ড পণ্য বিশেষ করে ওয়াশিং মেশিনেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের শর্তে রেয়াতি সুবিধা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমদানি করা ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন দেখিয়ে রেয়াতি সুবিধার অপব্যবহার করা হচ্ছে। চায়নিজ কোম্পানি হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে এসআরও এর শর্ত ভঙ্গ করে এসি, ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনে রেয়াতি সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দেশে এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি বিভিন্ন নীতিগত সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত ভিআরএফ (ভেরিয়েবল রেফ্রিজারেন্ট ফ্লো) এয়ার কন্টিশনিং সিস্টেম আমদানির অভিযোগে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই খাত সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, হায়ার বাংলাদেশ একই বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) ও ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন)-এর অধীনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি) এবং কর্মাশিয়াল ইম্পোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (কর্মাশিয়াল আইআরসি) ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এই দ্বৈত নিবন্ধনের কারণে-ই প্রতিষ্ঠানটি একদিকে স্থানীয় উৎপাদনকারী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসির আওতায় বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করছে, অন্যদিকে কর্মাশিয়াল আইআরসি ব্যবহার করে চীনসহ বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত ভিআরএফ এয়ার কন্টিশনিং সিস্টেম আমদানি করছে।

এসি উৎপাদনে শুল্ক ও ভ্যাট সুবিধা নিলেও শর্ত পরিপালনে করে না

একাধিক সূত্রমতে, বাংলাদেশে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) শিল্পের বিকাশে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সরকার কাস্টমস শুল্ক ও ভ্যাটে বিভিন্ন নীতি সহায়তা প্রদান করে আসছে। এসব নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো—দেশে এসির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানো। তবে একাধিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও কাস্টমস আমদানি তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে যে, এ নীতির সুযোগ নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে-ই সরকারি সুবিধা ভোগ করছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট এসআরও অনুযায়ী নীতি-সুবিধা গ্রহণকারী একটি এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্টের মধ্যে যে কোনো তিনটি দেশে উৎপাদন করতে হবে। এসব কম্পোনেন্টের মধ্যে রয়েছে—ইনডোর ইউনিট, আউটডোর ইউনিট, কনডেনসর, এভাপোরেটর, সাকশন অ্যান্ড ডিসচার্জ পাইপ। এছাড়াও শুধু উৎপাদনের ঘোষণা দিলে-ই হবে না। সংশ্লিষ্ট কম্পোনেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, উৎপাদন লাইন এবং প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের থাকতে হবে—এমন শর্তও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। কাস্টমস আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হায়ার বাংলাদেশ উল্লিখিত কম্পোনেন্টগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় বিদেশ থেকে আমদানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির এই ধরনের কর্মকাণ্ড কাস্টমস এসআরও-এর শর্ত লঙ্ঘন এবং সরকারি শিল্পনীতি ও রাজস্ব সুবিধার অপব্যবহারের শামিল।

অপরদিকে, সরকার স্থানীয়ভাবে এসি উৎপাদনের জন্য শর্ত সাপেক্ষে রেয়াতি সুবিধা দিয়েছে। কয়েকটি শর্তের মধ্যে প্রধান শর্ত হলো, প্রতিষ্ঠানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের আমদানি সংক্রান্ত দলিলাদি যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম বর্হিভূতভাবে একই ই-টিআইএন দিয়ে একই ঠিকানা ব্যবহার করে একই প্রতিষ্ঠানের নামে দুইটি আইআরসি নিবন্ধন নিয়েছেন। যার মধ্যে একটি মাল্টিন্যাশনাল ইম্পোর্টার ও অপরটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইম্পোর্টার। প্রতিষ্ঠানটি দুইটি আইআরসি ব্যবহার করে এসি আমদানি করে রেয়াতি সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি শর্ত ভঙ্গ করে রাজস্ব সুবিধা নিয়ে তার অপব্যবহার করছে বা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। শুধু এসি নয়, শর্ত ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন আমদানি করেছে।

ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণায় আমদানি হচ্ছে এসি, সিবিইউ অবস্থায় ফ্রিজ

হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০২৪ থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চীন থেকে সিবিইউ বা সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ২০২৪ সাল থেকে ৩ লাখ বিটিইউ ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম আমদানি করেছে। এটি মূলত ভিআরএফ (ভেরিয়েবল রেফ্রিজারেন্ট ফ্লো) এয়ার কন্টিশনিং সিস্টেম। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৯৮ পিস রেডিমেড সেন্ট্রাল এসি আমদানি করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এসিকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করেছে। দেশে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনী যন্ত্রপাতি) ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিশেষ রেয়াতি সুবিধা দিয়ে আসছে। ক্যাপিটাল মেশিনারি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক ছাড়া আর কোন শুল্ককর দিতে হয় না। হায়ার বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ এসি আমদানি করে তা বিক্রি করে দিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসি ছাড়াও রেয়াতি সুবিধায় প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স সংক্রান্ত পণ্য আমদানি করেছে। যদিও এনবিআরের এসআরও এর শর্তানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় পণ্য আমদানি করার সুযোগ নেই। বা করলে শর্ত ভঙ্গ হবে এবং প্রতিষ্ঠানটি এসআরও সুবিধা পাবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাস্টমসের চোখে ধুলা দিয়ে একেকবার একেক আইআরসি ব্যবহার করে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পণ্য খালাস করছে। আর জালিয়াতি বা শুল্ককর ফাঁকির এসব পণ্য বাজারে কম দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ৪৪৮ পিস এসি কম্প্রেসর, ৪৪৮ পিস এসি মোটর আমদানি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৩৬৯ লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন হায়ার ব্র্যান্ডের রেডিমেড ১৪৮ পিস চেস্টা ফ্রিজার আমদানি করেছে।

২০২৩-২০২৬ (জুলাই) ৪৫,০৬৪ পিস ওয়াশিং মেশিন আমদানি

অপরদিকে, বাংলাদেশে হায়ার ব্র্যান্ডের ওয়াশিং মেশিন আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ৭ থেকে ১৪ কেজি-এই আট ধরনের ক্যাপাসিটির প্রায় ৪৫ হাজার ৬৪ পিস ওয়াশিং মেশিন আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ১০ হাজার ৮১৭ পিস, ২০২৪ সালে ৭ হাজার ৫২২ পিস, ২০২৫ সালে ২০ হাজার ৪৬১ পিস, ২০২৬ সালে (জুলাই পর্যন্ত) ৬ হাজার ২৬৪ পিস ওয়াশিং মেশিন আমদানি করেছে হায়ার বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ওয়াশিং মেশিন আমদানি করা হয়েছে।

স্থানীয় এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনকারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় উৎপাদনকারী হিসেবে শিল্প সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি একই বিআইএন ও টিআইএন এর অধীনে বাণিজ্যিক আমদানিকারক হিসেবে ফিনিশড গুডস আমদানি করে থাকে, তাহলে বিষয়টি বিদ্যমান আমদানি নীতি, কাস্টমস আইন, শুল্ক কাঠামো এবং শিল্পনীতি অনুযায়ী কতটুকু বৈধ- তা তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকারী হিসেবে প্রাপ্ত শুল্ক ও কর-সংক্রান্ত সুবিধা ভোগ করেও একই সঙ্গে সম্পূর্ণ প্রস্তুত পণ্য আমদানি করে বাজারজাত করে, তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায়, ন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং দেশীয় শিল্পের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের শিল্পনীতি, রাজস্ব সুরক্ষা, স্থানীয় উৎপাদন শিল্পের স্বার্থ এবং সমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেজন্য দ্রুত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত অর্থে দেশে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করেছে, আধুনিক উৎপাদন লাইন স্থাপন করেছে এবং নীতিমালার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করছে, তারা বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শিল্পনীতি স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণীত হলেও, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত যন্ত্রাংশ আমদানি করেই একই নীতি-সুবিধা ভোগ করে, তাহলে প্রকৃত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বিষয়টি এনবিআরকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তারা হায়ার বাংলাদেশের কাস্টমস আমদানি তথ্য, বিল অব এন্ট্রি, উৎপাদন সক্ষমতা, উৎপাদন লাইন, কারখানার বাস্তব কার্যক্রম এবং সরকারি নীতি-সুবিধা গ্রহণের শর্তসমূহ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত কাস্টমস আইন, ভ্যাট আইন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পনীতির আলোকে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি নীতি-সহায়তার অপব্যবহার রোধে আরও কার্যকর নজরদারি ও নিরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে এনবিআরের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশে শিল্প গড়ে তুলতে এবং রপ্তানিকে উৎসাহ দিতে সরকার এসি, ফ্রিজ ও গৃহস্থালি পণ্য তৈরিতে রেয়াতি বা কর সুবিধা দিচ্ছে। এই সুবিধা নেয়ার প্রধান শর্ত হলো, স্থানীয়ভাবে ফিনিশড গুডস উৎপাদন করতে হবে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান যদি এসআরও এর শর্ত ভঙ্গ করে কাঁচামাল দেখিয়ে ফিনিশড গুডস আমদানি করে রেয়াতি সুবিধা নেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হায়ার বাংলাদেশ যদি শর্ত ভঙ্গ করে রেয়াতি সুবিধা নেয়, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ফিনিশড গুডসকে ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই। কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেবে।

অপরদিকে, হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের মোহাম্মদ মুনিম (হেড অব এসি) বলেন, কিছু এসি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়, কিছু চায়না থেকে আমদানি করা হয়। সরকারের যত নিয়ম ও এসআরও রয়েছে, সে অনুযায়ী এসি উৎপাদন করা হয়। ভিআরএফ এসিকে হায়ার বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে আমদানি করা হয়। ভিআরএফ এসির আমদানিতে সুবিধা নেয়ার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ভিআরএফ এসিতে আমরা সরকার থেকে কোন সুবিধা নেয় না। আমরা কোন ভিআরএফ এসি উৎপাদনও করি না। বাংলাদেশে আমরা দুই টন পর্যন্ত এসি উৎপাদন করি। দুই টনের বেশি হলে আমদানি করি। হায়ার বাংলাদেশের একই টিআইএন এর অধীনে দুইটি আইআরসি থাকার বিষয়য়ে মোহাম্মদ মুনিম বলেন, এ বিষয়ে আমার কর্মাশিয়ালের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এসি, ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজে রেয়াতি সুবিধা হায়ার বাংলাদেশ নেয় কিনা-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওয়াশিং মেশিন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সরকার যে সুবিধা দেয়, তা নিয়ম অনুযায়ী আমরা নেয়। তবে সিবিইউ ওয়াশিং মেশিনে কোন সুবিধা নেই। আমরা সরকারের সব মেনে, যেসব পণ্য যেসব শর্তের মধ্যে পড়ে-সেগুলো মেনে আমরা করছি। যেগুলো পড়ে না, সেগুলো করছি না। রেয়াতি সুবিধায় বিপুল পরিমাণ এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন আমদানি করছে হায়ার-আবার স্থানীয়ভাবে উৎপাদনেও রেয়াতি সুবিধা নেয়া হচ্ছে-আমদানি হলে স্থানীয়ভাবে রেয়াতি সুবিধা কিভাবে নেয়া হচ্ছে-এমন প্রশ্নে মুনিম বলেন, আমাদের এখানে প্রত্যেক মাসে ট্যাক্স অফিস থেকে ভিজিট হয়, আমরা যেসব এসআরও সুবিধা উপভোগ করি, সেগুলো যাচাই হয়। সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস আমাদের এখানে ভিজিট করে। আমদানি করা পণ্যে রেয়াতি সুবিধা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।