রূপালী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ ১১ জনকে জরিমানা

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বীমা খাতের তালিকাভুক্ত রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুস সোবহানসহ ১০ জন পরিচালক ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)কে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত মার্চে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে এ জরিমানার আদেশ জারি করা হয়। নির্দেশনায় তাদের ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়, ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল) কর্তৃক আরেকটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের (এনসিআরএল) বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এনফোর্সমেন্ট বিভাগের শুনানিতে রূপালী ইন্স্যুরেন্সে বেশকিছু সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসে। ওই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বীমা কোম্পানিটির ১০ জন পরিচালককে ১ লাখ করে মোট ১০ লাখ এবং সাবেক সিইওকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা যায়, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে সিআরআইএসএলের একটি চুক্তি ছিল, যার আওতায় ২০১৮ সালের প্রাথমিক রেটিং এবং পরবর্তী তিন বছর (২০১৯, ২০২০ ও ২০২১) নজরদারি বা সার্ভিল্যান্স রেটিং সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের রেটিং শেষ করার আগেই প্রতিষ্ঠানটি এনসিআরএলের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে রেটিং প্রকাশ করে। বিএসইসির ‘ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিজ রুলস, ২০২২’-এর ১০(১)(ই) বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর প্রাথমিক রেটিংসহ টানা তিনটি নজরদারি রেটিং সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেই চুক্তি বাতিল করা যায় না। বিশেষ কোনো কারণে চুক্তি বাতিল করতে হলে বিএসইসির পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।

বিএসইসিইর শুনানিতে রূপালী ইন্স্যুরেন্স আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানায় যে তারা কোনো চুক্তি ‘বাতিল’ করেনি, বরং সিআরআইএসএলের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এনসিআরএলের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সিআরআইএসএল নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং আইনি বাধ্যবাধকতায় নতুন চুক্তি করতে বাধ্য হয়। সিআরআইএসএল ও এনসিআরএলের মধ্যকার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে কোম্পানিটি দাবি করে।

কমিশন সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা গ্রহণ না করে এ ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বিএসইসির পক্ষ থেকে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আলী আহমেদ, মোহাম্মদ ইউনুস, কাজী মনিরুজ্জামান, কেএম ফারুক, আবু হেনা, শাওন আহমেদ, মো. ওবাইদুল হক, মোস্তফা কামরুস সোবহান ও ফজলুতুন নেসাসহ সাবেক সিইও ফাওজিয়া কামরুন তানিয়াকে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্থদণ্ড ব্যক্তিগত দায় হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হবে।