বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সদ্য বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার ঘোষিত আয় ও সম্পদে ছয় বছরের ব্যবধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ ও ২০২৫ সালে দাখিল করা হলফনামা তুলনায় দেখা যায়, এ সময়ে তাঁর বার্ষিক আয় ২২ গুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থের পরিমাণ তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি স্থাবর সম্পদের তালিকাও কয়েকগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে।
২০১৯ সালের ৩ আগস্ট একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই রুমিন ফারহানা তৎকালীন সরকারের কাছে ১০ কাঠা জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন। সংসদ সদস্যদের প্যাডে করা ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ঢাকায় তাঁর নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট, জমি বা বসতভিটা নেই। তবে ছয় বছর পর জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী দেখা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় তাঁর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা রয়েছে।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সরাইল উপজেলার সাবেক যুবদল নেতা মো. আলী হোসেন।
৬ বছরে আয় বেড়েছে ২২ গুণ
২০১৯ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় ফারহানা বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে আইন পেশা থেকে আয় ছিল ৪ লাখ টাকা এবং ব্যাংক আমানতের সুদ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তার ঘোষিত বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তার আয় বেড়েছে অন্তত ২২ গুণ। পেশা হিসেবে নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
নগদ অর্থ বেড়েছে ৩ গুণ
২০১৯ সালে তার হাতে নগদ অর্থ ছিল ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৪২২ টাকা। ২০২৫ সালের হলফনামায় সেই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ টাকা এবং হাতে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৯ টাকা। ৬ বছরে নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৩ গুণেরও বেশি।
প্রসঙ্গত, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।

