রড ও স্টিল পণ্যের দাম বাড়তে পারে

বাজেট ২০২৫-২৬

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্টিল পণ্য, বিশেষ করে রডের দাম বাড়তে পারে। বাজেটে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ৪০ শতাংশের বেশি—আমদানিতে ২০–২৩ শতাংশ ও উৎপাদনে ২০ শতাংশ—বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি বাতিল হতে পারে বিদ্যমান ফিক্সড আমদানি শুল্ক। তবে শুল্ককর বাড়ানো হলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি টনে রডের দাম বাড়তে পারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা।

বর্তমানে স্টিলের মূল কাঁচামাল স্ক্র্যাপ আমদানিতে প্রতি টনে ফিক্সড শুল্ক আদায় করা হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে স্টিল থেকে বিলেট ও রড উৎপাদনে প্রতি টনে ফিক্সড ভ্যাট ২ হাজার ২০০ টাকা। সবমিলিয়ে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে সরকার প্রতি টনে পাচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা। প্রস্তাবিত শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধি কার্যকর হলে এর পরিমাণ ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

এনবিআরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি টন রডের দাম প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এনবিআর প্রতি টনে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা রাজস্ব পাচ্ছে—যেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের হিসাবে এই পরিমাণ হওয়া উচিত ছিল প্রায় ৫ হাজার ০০০ টাকা। ফলে আমরা মনে করছি, সরকার এই খাতে সঠিক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য কর কিছুটা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ জানিয়েছেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় স্টিল ও রডের চাহিদা কমেছে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ। কর যদি এত বেশি হারে বাড়ানো হয়, তা এই খাতের জন্য বিপর্যয়কর হবে। এত বেশি হারে ভ্যাট ও এআইটি বাড়ানো হলে দাম বেড়ে যাবে, তাতে সাধারণ ভোক্তার কেনা কমে যাবে। ফলে ব্যক্তি, বেসরকারি খাত ও আবাসন খাতে চাহিদা কমবে—যা আরেক দফা এই খাতে হুমকির মুখে ফেলবে।

এই খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের মাথাপিছু স্টিল ব্যবহার এখনও অনেক কম। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু স্টিল ব্যবহার প্রায় ৫৫ কেজি, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৯৫ কেজিতে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে ভারতে মাথাপিছু স্টিল ব্যবহার ৯৩.৪ কেজি, জাপানে ৪৩২.৫ কেজি ও যুক্তরাষ্ট্রে ২৬৬.৩ কেজি।

** বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে ও কমতে পারে