রডের পর বাড়ল সিমেন্টের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছিল রডের দাম। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বেড়েছে নির্মাণ খাতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সিমেন্টের দামও। বিভিন্ন কোম্পানি বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচও বেড়ে গেছে। ফলে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে কোম্পানিগুলো। চট্টগ্রামের হালিশহরের রড ও সিমেন্ট ডিলার আরএম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মহিদুল মাওলা বলেন, সিমেন্টের দাম বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। ফলে একই সপ্তাহে নির্মাণের দুটি প্রধান উপকরণ রড ও সিমেন্ট—দুটোরই দাম বাড়ল।

বিক্রেতারা জানান, ব্র্যান্ডভেদে সিমেন্টের দামে পার্থক্য রয়েছে। দাম বাড়ার পর বর্তমানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) সিমেন্ট ৪৮০ থেকে ৫২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে টনপ্রতি সিমেন্টের দাম প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর আগে রডের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় ব্র্যান্ডের রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে ৯০ হাজার থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পাল্টা হামলার ঘটনায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর থেকে তেল–গ্যাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় সমুদ্রপথে জাহাজভাড়া বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শিপিং কোম্পানিগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সারচার্জ আরোপ করেছে। ফলে শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানির ব্যয় বেড়ে গেছে।

সিমেন্টশিল্পের কাঁচামালের প্রায় সবই আমদানিনির্ভর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের ৩৯টি সিমেন্ট কোম্পানি মোট ৪ কোটি ৩৬ লাখ টন কাঁচামাল আমদানি করেছে। এসব কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ ও স্ল্যাগ।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিমেন্টের কাঁচামালের প্রায় ১৬ শতাংশ এসেছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চল থেকে দুই সপ্তাহ ধরে নতুন করে কাঁচামাল আসেনি। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ কিছুটা সংকুচিত হয়েছে এবং সিমেন্টশিল্পে এর প্রভাব পড়েছে।