ব্যাংকের মোট আমানতের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এই অর্থের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার হয়েছে। তবে যারা এ অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনের আওতায় আনা হবে। গভর্নর আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বব্যাপী এ ধরনের অর্থ পুনরুদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশ। তবুও অর্থ ফেরত আনতে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে কিছু অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ তথ্য জানান। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের এই সংবাদ সম্মেলনে ১০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার পাশাপাশি গভর্নর অংশ নেন। ব্যাংক খাতের আস্থার সংকট, টাকা না পাওয়া ও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন গভর্নর। গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ পাঁচ লাখ কোটি টাকা। এই পরিমাণ টাকা রাজস্ব খাত থেকে এনে পূরণ করা সম্ভব নয়। সে জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব ছিল ব্যাংক খাত স্থিতিশীল করা। সেই সঙ্গে ব্যাংকে আবার মূলধন জোগান দেওয়া। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
একীভূত পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারের জবাব দেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে দেখলাম, আলোচনা হচ্ছে একীভূত ব্যাংক টিকবে কি না। তখন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন; এমডি যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করলেন। এরপর পরবর্তী চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। ইতিমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ সভাও করেছে। শিগগির তাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার একীভূত কার্যক্রম শুরু হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংক একীভূত প্রক্রিয়ার দিকে শিগগির এগিয়ে যাবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘একদল মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখল, আরেক দল চুরি করে নিয়ে গেল। এখন করদাতাদের টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকে মূলধন জোগান দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরাও শঙ্কায় থাকি।’ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ১২ বছর ধরে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারী টাকা ফেরত পাবেন।
