মোবাইলের সিম রিপ্লেসমেন্ট কর বাতিল হতে পারে

মোবাইল ফোনের সিম প্রতিস্থাপন (সিম রিপ্লেসমেন্ট) সেবার ওপর আরোপিত কর আগামী বাজেটে তুলে নেওয়া হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) সিম প্রতিস্থাপনের ওপর থাকা করও প্রত্যাহারের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি সিম প্রতিস্থাপনে ২০০ টাকা কর দিতে হয়। আইওটি সিম হলো বিশেষ ধরনের সেলুলার সিম, যা মোবাইল ফোনের বদলে বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস, সেন্সর ও যন্ত্রপাতিকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানান, সিম রিপ্লেসমেন্ট কর প্রত্যাহারের বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই কর তুলে নেওয়া হলে সরকারের প্রায় ১৩০ কোটি টাকার রাজস্ব কমতে পারে। তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এটি একটি যৌক্তিক দাবি, যা তারা দীর্ঘদিন ধরে তুলে আসছে। এ কর প্রত্যাহার হলে খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৭০ লাখ। একই ব্যক্তির নামে একাধিক সিম নিবন্ধিত থাকায় এ সংখ্যা নিবন্ধিত সিমের ভিত্তিতে গণনা করা হয়েছে। মোবাইল অপারেটরগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ লাখ সিম প্রতিস্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালে সরকার প্রতিটি সিম প্রতিস্থাপনের জন্য ২০০ টাকা কর নির্ধারণ করে। এর আগে করের হার বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি বছর প্রায় ৬ কোটি নতুন সিম বিক্রি হয়, যার প্রতিটির ক্ষেত্রেও ২০০ টাকা কর আরোপিত রয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে।

সাধারণত মোবাইল ফোন চুরি হলে, দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সিম ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা অন্যান্য কারণে সিম প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। সিম প্রতিস্থাপন বলতে একই মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে নতুন সিম গ্রহণকে বোঝায়। মোবাইল অপারেটরগুলোর দাবি, একটি সিম কেনার সময় যেহেতু একবার কর পরিশোধ করা হয়, তাই একই নম্বরের সিম পুনরায় ইস্যুর ক্ষেত্রে আবার কর আরোপ করা হলে তা কার্যত দ্বৈত করের শামিল।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিম রিপ্লেসমেন্ট কর বাতিলের নির্দেশনা এসেছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বাজেটের অর্থ বিলে এ পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এ বিষয়ে দেশের অন্যতম মোবাইল অপারেটর রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, সরকার সিম রিপ্লেসমেন্ট কর প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন পর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবির যৌক্তিকতাও প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে।