মোটরসাইকেল ব্যবসায় নামছে প্রাণ-আরএফএল

বহুমুখী ব্যবসার পরিসর আরও সম্প্রসারণ করতে নতুন করে মোটরসাইকেল ব্যবসায় প্রবেশ করছে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ। এ লক্ষ্যে মোটরসাইকেলের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ড টিভিএসের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে দেশের বাজারে টিভিএসের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনের দায়িত্ব পালন করবে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ। এ উদ্দেশ্যে হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য একটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারখানাটির মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা থাকবে পাঁচ হাজার ইউনিট। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির।

রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ–আরএফএল সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরএন পাল। তিনি বলেন, একসময় টিভিএস তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ সেটিকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড় করাতে চায়। সে লক্ষ্যে শিগগিরই দেশে টিভিএস মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করা হবে। আরএন পাল আরও জানান, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা এবং প্রতিবছর এই বাজার ১৬–১৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় দেশের মোট বাজারের বড় অংশই টিভিএসের দখলে ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্র্যান্ডটির ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে টিভিএসকে আবারও বাজারের শীর্ষ অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

আরএফএল গ্রুপ বর্তমানে রাইডো নামে বিদ্যুৎ–চালিত স্কুটার উৎপাদন ও বিপণন করছে। হবিগঞ্জের কারখানায় প্রতি মাসে ৫০০ ইউনিট বিদ্যুৎ–চালিত স্কুটার উৎপাদন হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতি মাসে উৎপাদন হবে ৩ হাজার ইউনিট। কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে নতুন করে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে গ্রুপটি। ভবিষ্যতে আরও ৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হবে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি মোটরসাইকেল ও স্কুটারে মোট ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানান আর এন পাল।

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাংবাদিকদের জানান, স্কুটার ও মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে ইতিমধ্যে এক হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কারখানা পূর্ণমাত্রায় চালু হলে আরও এক হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পরিবেশক ও সার্ভিস নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি। আরএন পাল আরও বলেন, বিদ্যুৎচালিত গাড়ির ব্যবসায় প্রবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে আরএফএল গ্রুপের। এ লক্ষ্যে চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি থেকে নিজস্ব ‘নেক্সো’ ব্র্যান্ডের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি আমদানি করে বাজারজাত করা হবে। প্রথম ধাপে ২০টি গাড়ি আনা হবে, যেগুলো নিজেদের ব্যবহারের পর সন্তোষজনক হলে বড় পরিসরে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুরুতে সেডান ও এসইউভি মডেলের গাড়ি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ি ও স্কুটার চার্জ দেওয়ার জন্য প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন ডিপোকে চার্জিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি স্কুটার চার্জের সুবিধা দিতে প্রাণ–আরএফএলের খুচরা পণ্যের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতেও চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান আরএন পাল। তিনি বলেন, আপাতত নিজেদের ব্র্যান্ডের গাড়ি সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় আমদানি করা হবে। পরবর্তী সময়ে সংযোজন এবং ধাপে ধাপে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপস্থিত ছিলেন আরএফএল গ্রুপের বাইক ব্যবসার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক তৌহিদুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।