মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই বাজেটের মূল লক্ষ্য

বাজেট ২০২৫-২৬

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্যেই চলতি বছরের তুলনায় বাজেটের আকার ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের কয়েকটি কর্মসূচিতে ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ থাকছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কারসহ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তবে বড় কোনো নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে না।

আগামী বাজেট নিয়ে অর্থ বিভাগের প্রস্তুত করা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১৬ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সামনে এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রাধান্য দিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য পূরণে কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকেও গুরুত্ব থাকবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণকারী অন্তর্বর্তী সরকারের এটি হবে প্রথম বাজেট। এতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর।

একইসঙ্গে বাজেটে গুরুত্ব পাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ। সামগ্রিকভাবে আর্থসামাজিক বৈষম্য হ্রাসের যে দাবি ও চাপ থেকে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, বাজেট সেই দাবিগুলো পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন পরিকল্পনাই গ্রহণ করা হয়েছে।

কেমন হচ্ছে নতুন বাজেটের কাঠামো

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এবারের বাজেট আকার কিছুটা ছোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাজেট ঘাটতিকে সহনীয় মাত্রায় রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম।

নতুন বাজেটে পরিচালন বা অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অপরদিকে, উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা; চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হতে পারে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে চলতি বাজেটে ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম বাজেটের আকার কমানো হচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ—মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সংকুচিত মুদ্রানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ব্যয় হ্রাস করা এবং বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য করে তোলা।

This will close in 5 seconds