মাত্রা ছাড়া লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকরা

চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত শুক্রবার ও শনিবার, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও, প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) থেকে কলকারখানা ও অফিস-আদালত পূর্ণমাত্রায় চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ঢাকার বাইরে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি বেড়েছে। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। কক্সবাজার ঘুরে আসা ইকবাল করিম জানান, তিনি গত বুধবার থেকে শুক্রবার কক্সবাজারে ছিলেন। প্রতিদিন ৮-৯ বার বিদ্যুৎ গেছে। পর্যটন নগরীখ্যাত কক্সবাজার সদরেই যদি লোডশেডিংয়ের এই অবস্থা হয়, তাহলে গ্রামের অবস্থা তো কল্পনার বাইরে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রাওনা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামের আসনার উদ্দিন জানান, দিনে ১২/১৩ বার বিদ্যুৎ আসে যায়। এতে তাদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। ফরিদপুরের মধুখালীর একটি কারখানার মহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, সারা দিনে তারা মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান। বাকি সময় কারখানা চালু রাখতে জেনারেটরই ভরসা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল সকালে পৌর শহরের সড়ক বাজারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঐক্যবদ্ধ আখাউড়ার এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিন-রাত ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা না হলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করা হবে।

গতকাল রাত ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫১৩ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। এর আগে দুপুর ১২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট, লোডশেডিং দিতে হয়েছে ২ হাজার ৬২৬ মেগাওয়াট। শুক্রবার রাত ১২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৪১ মেগাওয়াট। লোডশেডিং করতে হয়েছে ২ হাজার ৭৪৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের ভয়াহ সংকট শুরুর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এখন তা নেমে এসেছে ৭০ কোটি ঘনফুটে। শুক্রবার বিদ্যুৎ খাতে পেট্রোবাংলা গ্যাস দিয়েছিল ৬৭ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।