ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে পাবদা, পাঙাশ, ট্যাংরা ও তেলাপিয়া প্রজাতির মাছ রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে বেনাপোল স্থলবন্দর রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে মোট ১৩ হাজার ৭৪২ টন মাছ রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে শুধু পাবদা মাছই ছিল ১২ হাজার ১৬৯ টন বা ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একই সময়ে মাছ রপ্তানি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
সোমবার যশোর জেলা মৎস্য অফিসে ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ)। এতে মৎস্যচাষি, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, যশোরের মনিরামপুর, ঝিকরগাছা ও সদর উপজেলার বিপুলসংখ্যক মৎস্যচাষি রপ্তানিমুখী মাছ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের উৎপাদিত মাছই দেশের রপ্তানির বড় অংশ জোগান দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৯৯ কেজি মাছ ভারতে রপ্তানি হয়, যার মূল্য ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ ১৩ হাজার ডলার (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৭৬ দশমিক ৮০ শতাংশই ছিল পাবদা মাছ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ লাখ ৯২ হাজার ৫৫০ কেজিতে। এ সময়ে আয় হয় ২ কোটি ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ ডলার (প্রায় ৩১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা)। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানির পরিমাণ ও আয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
কর্মশালায় বিপিসির সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ জানান, বর্তমানে মোট মাছ রপ্তানির ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা মাছ। শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া ইলিশ, ট্যাংরা, পারশে, ভেটকি ও কার্প-জাতীয় মাছও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ, যশোর হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন গোলদার, নাগরিক অধিকার আন্দোলন যশোরের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুর রহমান মিঠু প্রমুখ।
