মাছের আঁশ রপ্তানি করে লাখ টাকা আয়

কুড়িগ্রামে এক সময় ফেলে দেওয়া মাছের উচ্ছিষ্ট আঁশ এখন রপ্তানিযোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ও বেড়েছে। ফলে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সাধারণত মাছের আঁশ বর্জ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও গত কয়েক বছরে এটি মূল্যবান কাঁচামালে রূপ নিয়েছে। প্রতিবছর কয়েকশ মণ মাছের আঁশ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন পাইকারের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে, যা থেকে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুই, কাতলা, মৃগেল, কার্প ও ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আঁশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। শুধু আঁশই নয়, মাছের ফুলকা, নাড়িভুঁড়ি ও পেটের অংশসহ অন্যান্য উচ্ছিষ্ট উপাদানেরও বাজার তৈরি হয়েছে। বড় মাছের আঁশ সংগ্রহের পর তা ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর বছরে দুই থেকে তিনবার এসব আঁশ পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতি মণ আঁশের দাম দুই থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।

ব্যবসায়ীরা জানান, এক মণ কাঁচা আঁশ সংগ্রহে খরচ হয় মাত্র ২০-২৫ টাকা। শুকানোর পর তা থেকে প্রায় এক কেজি আঁশ পাওয়া যায়। যা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এতে করে খুব সহজেই বাড়তি লাভের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। রাজারহাট বাজা‌রের ব্যবসায়ী সুনীল চন্দ্র ও দিলীপ কুমার বলেন, আগে মাছের আঁশ ফেলে দিতাম। এখন প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর এগুলো সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করছি। এতে আমাদের অতিরিক্ত আয় হচ্ছে।

খলিলগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী পূর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, মাসে ২০-৩০ কেজি পর্যন্ত আঁশ সংগ্রহ হয়। এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বছরে কয়েকবার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করি। পাশাপাশি মাছের অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশও বিক্রি করে আয় করছি। ‌পৌর বাজা‌রের মাছ কাটার শ্রমিক সজিব জানান, আগে আঁশ ফেলে দিতাম। এখন এগুলো বিক্রি করে প্রতিদিন বাড়তি আয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে আরডিআরএস বাংলাদেশের এগ্রিকালচার বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মশিউর রহমান জানান, সংস্থার সহায়তায় জেলার কয়েকটি উপজেলায় মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সংগৃহীত মাছের আঁশ বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম আকন্দ বলেন, মাছের আঁশ এখন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক একটি খাত হিসেবে গড়ে উঠছে এবং এর মান নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে।