** অপরাধ স্বীকার করায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
** ভেজাল কনফিডেন্স লবন বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য আদালত
আয়োডিনবিহীন ভেজাল লবন উৎপাদনের কথা আদালতে স্বীকার করলেন কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিউল ইসলাম। ভেজাল লবন বাজারজাত করার অপরাধে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে ভেজাল লবন বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য আদালত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ওই আদেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্রে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, একই আদালত ১৮ ডিসেম্বর ‘আয়োডিন না দিয়ে ভেজাল কনফিডেন্স লবন’ বাজারজাতের দায়ে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বিএসটিআই এর মান আনুযায়ী প্যাকেটজাত লবনে ২০-৫০ পিপিএম আয়োডিন থাকার কথা। পরীক্ষাগারে মাত্র ১৩ পিপিএম পাওয়া গেলে ওই মামলা করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান। এই বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মোহাং কামরুল হাসান বিজনেস বার্তাকে বলেছেন, পরীক্ষাগারে নিম্নমান পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ২৪ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করলে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে বাজার থেকে ওই লটের লবনগুলো তুলে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কনফিডেন্স আয়োডিনযুক্ত ভ্যাকুয়াম লবনের মান নিয়ে সন্দেহ হলে বাজার থেকে ১ কেজি ওজনের প্যাকেট সংগ্রহ করা হয়। জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষায় মানহীন পাওয়া গেছে। খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী কনফিডেন্স সল্ট মান সম্পন্ন নয় বলে সনদপত্র প্রদান করেছে।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে তাতে আয়োডিন নেই বলা চলে। এই লবন খাওয়া, না-খাওয়া সমান। এই লবন খেলে শিশুদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এটা বড় ধরণের প্রতারণা, অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। অবিলম্বে বাজার থেকে ভেজাল লবন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া উচিত।
কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের হেড অব ব্র্যান্ড মার্কেটিং নেওয়াজ ইমতিয়াজকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরে নেওয়াজ ইমতিয়াজ বলেছিলেন, আমরা এখনও কোন নোটিশ পাইনি, তবে লোক মারফত জানতে পেরেছি গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা। তারা এক তরফা নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করেছে। কি পেয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। আমাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করলে ভালো হতো।
আয়োডিন না থাকার বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বলেছিলেন, কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটি না জেনে কিছু বলতে পারছি না। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ৩ মাসের মতো সময়ে সরকার আয়োডিন সরবরাহ দিতে পারেনি। বাধ্য হয়ে মিডফোর্ড খোলা বাজার থেকে আয়োডিন সংগ্রহ করেছি। ওই আয়োডিনের কোয়ালিটি কিছুটা খারাপ থাকতে পারে। সেখান থেকে কোন সমস্যা হলো কি-না বলতে পারছি না।
** কনফিডেন্স লবনে আয়োডিন নেই, প্রতারণা
** নিম্নমানের ‘কিট ক্যাট’ চকলেট বিক্রি করে নেসলে
** অপরাধ স্বীকার, কিটক্যাট ব্যবসায়ীর জামিন
** বিজ্ঞাপন আইডিয়া নকল, নেসলের বিরুদ্ধে মামলা
** নেসলের গুঁড়োদুধে রাসায়নিক উপাদান, আতঙ্কে ভোক্তা
** ইলেকট্রনিক পণ্য ঘোষণায় এলো ‘নেসলের নিডো’
** গুঁড়া দুধের বাজার ৬০০০ কোটি টাকার
** ‘সেবা আমদানির’ নামে রাজস্ব ফাঁকি ১৮২৫ কোটি টাকা
** সেরেলাক-নিডোতে শিশুরা দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হতে পারে
** বেবি ডায়াপার ঘোষণায় গুঁড়ো দুধ আমদানি
** কিটকাট অনিরাপদ, বাজার থেকে সরানোর নির্দেশ
** মেঘনার ‘ফ্রেশ সুগারে’ চিনির চেয়ে ‘সালফার’ বেশি
** ‘ফ্রেশ সুগারের’ বন্ড সুবিধার অপব্যবহার
** ভেজাল পণ্য বিক্রি করে প্রিমিয়াম সুইটস!

