রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিয়ন্ত্রিত ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার অর্ধেকের বেশি অংশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটলে ঢাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, নিউমার্কেট, লালবাগ ও কেরাণীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি এলাকা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রাজউক ও বুয়েটের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ঢাকার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকায় ভূমিকম্পের সময় মাটির দৃঢ়তা কমে গিয়ে তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে ভবন বসে যাওয়া, হেলে পড়া কিংবা ফাটল ধরার আশঙ্কা থাকে। বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আলগা ও ভরাট মাটির কারণে এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। এছাড়া রাজউকের আওতাধীন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার অর্ধেকেরও বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ঢাকার মাটি মূলত নরম কাদামাটি ও পলিমাটি দিয়ে গঠিত, যা ঘনবসতিপূর্ণ নগরায়নের জন্য উপযোগী নয়। ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। গবেষকরা লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল ইনডেক্স (এলপিআই) ব্যবহার করে ঢাকাকে চারটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে
হাজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়া, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালামের কিছু এলাকা—এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের সময় মাটি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। ফলে এসব এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।
মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে
কোনাবাড়ী, ইয়ারপুর, হরিরামপুরের কিছু অংশ, বিরালিয়া, বিভিন্ন পৌরসভা এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, গুলশান, রূপগঞ্জ, ভুলতা, খিলগাঁও, কাফরুল ও দক্ষিণখানের কিছু অংশ, আদাবর, তেজগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, ডেমরা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কদম রাসুল পৌরসভা, মুসাপুর, ফতুল্লা ও হাজারীবাগের কিছু অংশ, সাদিপুর, কাঞ্চপুর এবং পল্টন। এসব এলাকাও ভূমিকম্পের সময় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
