ভুয়া পেইজের নাম করে হুমকি, থানায় জিডি

নামসর্বস্ব ও ভুয়া অনলাইন নিউজপোর্টাল। নেই নিবন্ধন। সেই ভুয়া নিউজপোর্টাল খুব বেশি সক্রিয় নয়। তবে ফেসবুক পেইজ বেশ সচল। বিশাল সাংবাদিক। হাতে ভুম। গলায় চটকদার ফিতা। তাতে বড় অক্ষরে লেখা সাংবাদিক। কোন শিক্ষা নেই। আবার শিক্ষা থাকলেও তা নামমাত্র। সাংবাদিকতার নিয়ম-নীতির কোন বালাই নেই। টার্গেট করা হচ্ছে দেশের নামি-দামি ব্যক্তি, ব্যবসায়ীদেরকে। ফোন করে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুবিধা নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। না দেওয়া হলে সম্মান হানি করতে ফেসবুক পেইজে চটকদার ‘কার্ড’ বানানো হচ্ছে। সেই কার্ড ফেসবুক বারবার শেয়ার দেওয়া হচ্ছে। বেশি প্রচারের জন্য করা বুস্ট।

ঢাকাসহ সারাদেশে এই ধরনের কয়েক হাজার ফেসবুক পেইজকেন্দ্রিক ভুয়া সাংবাদিকের চক্র তৈরি হয়েছে। আর এই চক্রটি নামি-দামি ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের বিপদে ফেলছে বলে প্রতিনিয়ত শত শত অভিযোগ আসছে। শেষে বাধ্য হয়ে অনেকেই আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন।

সম্প্রতি এমন এক ফেসবুককেন্দ্রিক ও নামসর্বস্ব অনলাইন সাংবাদিক একটি গ্রুপ অব কোম্পানি ও তার পরিচালনা পর্ষদকে নিয়ে অস্তিত্বহীন ও ভিত্তিহীন রিপোর্ট তৈরী করে অনৈতিক সুবিধা নিতে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে সর্বশেষ স্বনামধন্য ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ওই নামসর্বস্ব ও ফেসবুককেন্দ্রিক নিউজপোর্টাল হলো ‘নিউজ ব্যুরো অব বাংলাদেশ’। আর সাংবাদিকের নাম নিয়াজ হাসান। হয়রানি ও হুমকি দেওয়ায় ১৪ মে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি স্বনামধন্য গ্রুপের গ্রাহক হটলাইন পেইজে গিয়ে কোম্পানি নিয়ে ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়াজ হাসান নামের একজন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ম্যাসেজ দেয়। ৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ব্যক্তিকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ওই গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যানকে নিয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের হুমকি দেন এবং ফেসবুককেন্দ্রিক সেই ‘নিউজ ব্যুরো অব বাংলাদেশ’ নামক অনবিন্ধিত অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হবে বলে হুমকি দেন। এছাড়া মোবাইলে বিভিন্ন মানহানিকর ও ভীতিকর ম্যাসেজ দিতে থাকেন। এমনকি ফেসবুক পেইজে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও সচিবদের নিয়েও ফটোকার্ড বানিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এই ব্যাক্তি।

একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, পেশাদার সংবাদ মাধ্যম সব সময় দায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও বেশ কিছু অনিবন্ধিত অনলাইনে মানহানিকর পোস্টে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। অনিবন্ধিত নিউজ পেজে অপপ্রচার: সামাজিক সম্মান নিয়ে চলছে ব্যবসা। শুধুমাত্র কোনো একটি এলাকার নাম বা জনপ্রিয় কোনো শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে খুলে ফেলা হচ্ছে তথাকথিত নিউজ পেজ। এরপর যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হচ্ছে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ।

অভিযোগ রয়েছে, এসব পেজের অনেক পরিচালনাকারী সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায়, হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই ‘ব্রেকিং নিউজ’ বা ‘এক্সক্লুসিভ’-শিরোনামে প্রচার করা হচ্ছে নানা তথ্য, যা মুহূর্তেই সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ বা ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার জেরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পেশাদার সংবাদমাধ্যম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন নিবন্ধন, সম্পাদকীয় নীতিমালা ও তথ্য যাচাইয়ের দায়বদ্ধতা। কিন্তু ফেসবুকভিত্তিক এসব অনিবন্ধিত পেজের অধিকাংশেরই নেই কোনো আইনি কাঠামো বা জবাবদিহি। ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অনলাইনে মানহানিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।