ভারতীয় সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ

বাংলাদেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। সীমান্তে আটকে থাকা হাজার হাজার টন পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ব্যবসায়ীরা মাত্র ২ রুপি কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপি দরে। ৫০ কেজির এক বস্তা পেঁয়াজের দাম মিলছে ১০০ রুপি। অথচ নাসিক থেকে ১৬ রুপি কেজি দরে কেনা এসব পেঁয়াজ সীমান্তে পৌঁছাতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে খরচ পড়েছিল ২২ রুপি, তাই এখন প্রায় বিনামূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মালদহের স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ২০-২২ রুপি হলেও মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুর সীমান্তে ক্রেতারা কেজি প্রতি ২ রুপি দরে পেঁয়াজ পাচ্ছেন। রপ্তানিকারকদের দাবি, বাংলাদেশ হঠাৎ আমদানি বন্ধ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা জানান, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক আশ্বাসে সীমান্তে পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন। ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মাহাদিপুর ও হিলি সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ ছিল, যার বাজারমূল্য কোটি কোটি রুপি। বর্তমানে এসব পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। ক্ষতি কমাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক নিয়ে ভালো পেঁয়াজ থেকে পচা পেঁয়াজ আলাদা করছেন।

সাধারণত মাহাদিপুর সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা শুধু এই সীমান্ত এলাকাতেই প্রায় ২০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুদ করেছিলেন। তাদের কেনা দাম ছিল কেজিতে ২২ রুপি। বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারলে তারা ৩০-৩২ রুপি দর পেতেন, যাতে কেজিতে ৮-১০ রুপি লাভ থাকত। ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানি-রপ্তানি গ্রুপ এক নোটিশে জানায় যে, বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভারতীয় পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) সীমিত করেছে। অথচ বছরের এই সময়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে এবং বর্তমানে সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রায় ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাজিরুল শেখ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক পেঁয়াজ নাসিক ও ইন্দোর থেকে কিনে বড় লরিতে মালদহের গুদামে এনেছিলাম। ২২ রুপি কেজি দরে কেনা এসব পেঁয়াজ এখন পচতে শুরু করেছে। তাই বাধ্য হয়ে ২, ৬, ৮ বা ১০ রুপি কেজি দরে বিক্রি করছি। আরেক ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম বলেন, দুই মাস আগেও যখন রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল, আমি ৩০-৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় আমাদের স্টক পচতে শুরু করেছে। তাই দেরি না করে শতাধিক শ্রমিক দিয়ে পেঁয়াজ বাছাই করছি এবং লোকাল মার্কেটে যা দাম মিলছে, তাতেই বিক্রি করছি। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এখন পেঁয়াজ নেবে না। আমরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাই, নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

এদিকে পানির দরে পেঁয়াজ কিনতে পারলেও এতে খুশি নন ভারতীয় ক্রেতা খাইরুল হক। তিনি বলেন, ‘রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলার কারণে পেঁয়াজের বাজারের এই করুণ দশা। ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতিতে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা ২ রুপিতে পেঁয়াজ কিনছি, একটু ভালো মানেরটা ৮-১০ রুপিতে। অথচ আমাদের বাজারেই এর দাম ২০-৩০ রুপি।’

** বিপাকে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা