ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা নিয়ে কর্মকর্তা পলাতক!

অগ্রণী ব্যাংক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখার ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। গত দুই বছরে ধাপে ধাপে এই অর্থ সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে শাখাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার সময় জালিয়াতি, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমান এই তদন্ত পরিচালনা করেন।

তিনি নিরীক্ষা দলের প্রধান। সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) আনোয়ারুজ্জামান, এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইকবাল কবীর ও প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম।তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে দেওয়া হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত দুই বছরে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা থেকে মোট ৪৩ কোটি টাকা সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ কোটি টাকা রংপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকটির ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে নেওয়া হয়। ওই শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টেও ৪৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তবে আব্দুল লতিফ দাবি করেছেন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের কাছে তার ৪৫ লাখ টাকা পাওনা ছিল এবং তিনি সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এসব টাকা আত্মসাৎ করেন। যা চলছিল ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচরীর সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করর শর্তে তারা বলেন, এ ঘটনায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল একা দায়ী নন। তার সঙ্গে অনেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ নিয়ে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা অপসারণ হলেও তা কীভাবে তার নজরে আসেনি—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অভিযুক্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদরের কাঞ্চনপাড়ায় হলেও তিনি পরিবারসহ রংপুর শহরের রহমতপুরে বসবাস করতেন। প্রতিবেশীরা জানান, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি পরিবারসহ বিদেশে চলে গেছেন। তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন বলেন, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে আছেন, তবে কী কারণে সেখানে গেছেন তা তিনি জানেন না। ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।

এ নিয়ে ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সারাক্ষণ কম্পিউটার চেক করার মতো যথেষ্ঠ সময় আমার হাতে নেই। আমার অধীনে পাঁচটি জোন রয়েছে। এসবের প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করতে হয়। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানানো হয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সৈয়দপুর শাখা ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান ও ব্যাংকটির ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে।