ভারত ভ্রমণে ভিসা জটিলতা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন–এর অফিস বন্ধ থাকায় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে। গত তিন দিনে মাত্র ৫ হাজার ৩৯২ জন যাত্রী বাংলাদেশ–ভারত যাতায়াত করেছেন, যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্টরা জানান, হাইকমিশন অফিস বন্ধ থাকা ও ভিসা জটিলতার পাশাপাশি ভারত সরকার নতুন নিয়মে অনলাইন ‘আগমন ফরম’ বাধ্যতামূলক করায় যাত্রীর সংখ্যা আরও কমেছে। বর্তমানে ভ্রমণকারীদের ইন্ডিয়ান ভিসা অনলাইন অ্যারাইভেল ওয়েবসাইটে যাত্রার অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে আগমন ফরম পূরণ করে তার প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের সার্ভার সচল না থাকায় আগমন ফরম পূরণ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আগে যাত্রীদের ভারতের ইমিগ্রেশনে গিয়ে হাতে লিখে এরাইভাল ফরম পূরণ করতে হতো, কিন্তু এখন ভারত সরকার তা অনলাইনে বাধ্যতামূলক করেছে। এদিকে ভিসা ফি ও অন্যান্য খরচও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে একজন যাত্রীকে ভারতীয় দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় ভিসা ফি হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ভিসা পাওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভ্রমণকর বাবদ ১ হাজার ৫৭ টাকা এবং পোর্ট চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এসব ব্যয় গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় চিকিৎসা, ব্যবসা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এদিকে ভিসার জন্য পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমা দিলেও প্রায় ৯৫ শতাংশ যাত্রী ভিসা পাচ্ছেন না। এতে প্রতিজনের কাছ থেকে ভিসা ফি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় হলেও ভিসা না পাওয়ায় ওই অর্থ ফেরত মিলছে না—যা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিসা না দিয়েই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এভাবে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ভিসা জটিলতার কারণে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভারতগামী ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে ভারত সরকার ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ রাখে। বর্তমানে শুধু মেডিক্যাল ভিসা চালু থাকলেও শর্তসাপেক্ষে তা মাত্র ৫ শতাংশ রোগীকে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিসা না পেয়ে দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কিছু ভিসা মিললেও সেখানে অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
যে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেখিয়ে ভিসা নেওয়া হয়েছে, তার কাছেই চিকিৎসা করতে হবে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে ফেরার পথে যাত্রীদের আটকে দিচ্ছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন।বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতিদিন যেখানে সাত থেকে আট হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন, সেখানে এখন ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার সময় ফরিদপুরের শ্যামল দত্ত জানান, তিনবার ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েও ভিসা পাননি। চতুর্থবার দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিসা পেয়েছি। এ ছাড়া ভিসা অফিসে লেগেছে এক হাজার ৫০০ টাকা। ভ্রমণ কর দিতে হয়েছে এক হাজার ৬০ টাকা। এতো টাকা খরচা করার পর ডাক্তার দেখানোর টাকাই থাকছে না যাত্রীদের কাছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এস এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিনে মোট পাঁচ হাজার ৩৯২ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে শনিবার ভারতে গেছেন ৮৪৭ জন, ফিরেছেন ৭৭৯ জন, রবিবার গেছেন ৯৭৭ জন, ফিরেছেন ৮৮০ জন। সোমবার গেছেন এক হাজার ১৩৯ জন, ফিরেছেন ৭৭০ জন। ভিসা বন্ধ, ভিসা দিতে জটিলতা ও নতুন নিয়মের কারণে যাতায়াত অনেকাংশে কমে গেছে।’

