বেনাপোলে আবারও ৬ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আবারও প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণা-বহির্ভূত আমদানি পণ্যের একটি চালান আটক করেছে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্দর এলাকার ৩৭ নম্বর পণ্যগারে রাখা মিথ্যা ঘোষণায় আনা শাড়ি, থ্রি-পিস, ক্যামিক্যাল ও কসমেটিক্স পণ্য জব্দ করা হয়। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই পণ্য চালানটি আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আগে গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি পণ্যগার থেকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরাফাত এন্টারপ্রাইজের নামে ভারত থেকে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ১৭ টন পাটবীজ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ওই পণ্য চালানটি খালাস করার দায়িত্বে আমদানিকারকের পক্ষে কাজ করছিল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান কদর অ্যান্ড কোং।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়,গত বৃহষ্পতিবার (১২মার্চ) রাতে বন্দরের ৩৭নং শেডে ১০০প্যাকেজ বেকিং পাউডারের চালান আনলোড করা হয়। সেখানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বেকিং পাওডারের ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি চেষ্টায় ভারতীয় উন্নতমানের শাড়ী,থ্রিপিচ,কসমেটিক্স ও ক্যামিক্যাল পণ্য আমদানি করেন। পণ্য চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স এবং পণ্যচালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিলো সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান হুদা ইন্টার ন্যাশনাল। পণ্য চালানটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরীক্ষণ কালীন সময়ে ৭০০০পিস প্রিমিয়াম কোয়ালিটির শাড়ি,৬০০০পিস প্রিমিয়াম কোয়ালিটির থ্রিপিচ,৩০০টি টু পিস,৫৫০পিস ওরনা,৬০০কেজি ফেইচ ওয়াশ,১০০কেজি বডি লোশন ও ৬০ কেজি বিশেষ ধরনের ক্যামিকেল উদ্ধার হয়।

উল্লেখিত উচ্চ শুল্কের পণ্যসমূহের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। একের পর এক শুল্ক ফাঁকি চেষ্ঠায় ঘোষণা বর্হিভূত পণ্য চালান আটকের ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে জনমনে। অথর্ব ভূমিকায় সমালোচনার জোয়ারে ভাসছে স্টেশনটির কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা শাখা। বিপরীতে সরকারী শুল্ক ফাঁকি রোধে ধারাবাহিক সফলতায় বেনাপোল স্থলবন্দরে নিয়োজিত এন এস আই এর কার্যক্রম প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেনাপোল কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার অবৈধ ঘুষ বাণিজ্যের কারণে শুল্ক ফাঁকি চক্রের সদস্যরা বেনাপোল স্থলবন্দরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা এবং দায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা না হলে ভবিষ্যতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।