Header – After

বুয়েট তৈরি ই-রিকশা চলবে রাজধানীর ৩ এলাকায়

রাজধানী ঢাকায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) উদ্ভাবিত তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত পরিবেশবান্ধব ই-রিকশার পাইলটিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিগাতলা এলাকায় পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

আফতাবনগরের জি ব্লক মেইন রোড, আড্ডার মোড় এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাড্ডা–রামপুরা সড়ক থেকে আফতাবনগরে প্রবেশকারী নির্ধারিত সড়কে ই-রিকশার পরীক্ষামূলক চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, জিগাতলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধানমন্ডি এলাকায় নতুন ই-রিকশা এবং মতিঝিল এলাকায় রূপান্তরিত ই-রিকশা (ব্যাটারি/প্যাডেল রিকশা থেকে ই-রিকশায় রূপান্তরিত) চলাচলের অনুমতি প্রদান করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান; সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান; প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন; প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

ঢাকা শহরে অনিয়ন্ত্রিত ও বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ব্যাটারি সংযোজনকৃত প্যাডেল রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বুয়েটের মাধ্যমে ই-রিকশার মানসম্মত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই নকশা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কমিটির অনুমোদন পেয়েছে এবং পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। নতুন নকশার ই-রিকশা সাধারণ ই-রিকশার তুলনায় উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৮ ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারির মাধ্যমে একবার চার্জে প্রায় ৭০–৮০ কিলোমিটার পথ চলাচল সম্ভব হবে।

পাইলট পর্যায়ে ই-রিকশার ব্রেকিং সক্ষমতা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, গতি নিয়ন্ত্রণ, আরোহীর আরাম, কম্পন সহনশীলতা ও চালকের নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে। ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে ই-রিকশা নির্ধারিত এলাকার বাইরে বা প্রধান সড়কে চলাচল করতে পারবে না। একটি এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নির্ধারণ করবে। ই-রিকশা চালানোর জন্য চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রায় ২৪ হাজার রিকশাচালককে প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান করেছে।

অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ঢাকার বাস্তবতায় ই-রিকশা চালু করতে হলে এর নকশা, কাঠামো, ব্রেকিং সিস্টেম ও ব্যাটারি নিরাপত্তা অবশ্যই বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত হতে হবে। এ পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বাস্তব সড়কে সে মান যাচাই করছি। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ করে শৃঙ্খলিত নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা বলেন, দুর্ঘটনার মূল কারণ রাস্তার অভাব নয়, বরং বিশৃঙ্খলা ও নিয়ম না মানা। শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতেই বুয়েটের তৈরি এই ই-রিকশা পাইলটিং হিসেবে চালু করা হয়েছে। দ্রুত এটি পুরো ঢাকায় সম্প্রসারণ করা হবে।