Header – After

বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজিএমইএ সভাপতি নির্বাচিত

তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান। তিনি ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য বিজিএমইএর নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ নেতৃত্ব দেবেন। শনিবার (১৪ জুন) রাজধানীর উত্তরা অবস্থিত বিজিএমইএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন সভাপতিসহ সাতজন সহসভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এই ফলাফল বিজিএমইএর নির্বাচন বোর্ডের এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্বাচন বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি পদে মাত্র একটি বৈধ মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় এবং কোনো আপিল না থাকায় ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। তাই সব প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদ পেয়েছেন অনন্ত গার্মেন্টসের এমডি ইনামুল হক খান। অন্য সহসভাপতিদের মধ্যে রয়েছেন সফটেক্স সোয়েটারের এমডি মো. রেজওয়ান সেলিম, ফেব্রিকা নিট কম্পোজিটের এমডি মিজানুর রহমান (অর্থ), দেশ গার্মেন্টসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ভিদিয়া অমৃত খান, এমিটি ডিজাইনের এমডি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং ফ্যাশন ওয়্যারের এমডি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

এবারের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ ইকবাল। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সৈয়দ আফজাল হোসেন ও আশরাফ আহমেদ। ৩১ মে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১,৮৬৪ জন, যাদের মধ্যে ঢাকায় ১,৫৬১ জন এবং চট্টগ্রামে ৩০৩ জন ছিলেন। নির্বাচনে ৮৭.৫ শতাংশ ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেন। সদস্যদের ভোটে বিজিএমইএর ৩৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এরপর শনিবার ওই নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্য থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাহী পর্ষদ গঠন করা হয়।

বিজিএমইএর সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটি আগামী ১৬ জুন সোমবার থেকে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। বর্তমানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন অন্তর্বর্তীকালীনভাবে বিজিএমইএর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন।

গত বছরের মার্চে বিজিএমইএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ সব পদে জয়ী হলেও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন সভাপতি নির্বাচিত হন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান। এরপর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাকে আর দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসক নিয়োগের আগে পরিচালনা পর্ষদ খন্দকার রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে নতুন একটি কমিটি গঠন করেছিল। তবে ২০ অক্টোবর বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।