তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমই-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রায় ১০০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। এই মূল্য সম্পদ অর্জনকালীন। বছরে তাঁর আয় ৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় মাহমুদ হাসান খান এই আয় ও সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মাহমুদ হাসান খান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তাঁর স্ত্রী নার্গিস আক্তার গ্রুপটির চেয়ারম্যান। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ হাসান খান–এর মোট ৯৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ৮৭ কোটি টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নগদ অর্থ চার লাখ টাকা, ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেড় লাখ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে তাঁর বিনিয়োগ ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া ৫৮ লাখ টাকার একটি গাড়ি রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাহমুদ হাসান খান–এর প্রায় সাড়ে তিন একর কৃষিজমি রয়েছে, যার মূল্য ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। ৪২ শতাংশ আয়তনের জমির ওপর ভবন রয়েছে, যার মূল্য সাড়ে ১১ কোটি টাকা। এছাড়া ৬২৫ বর্গফুট আয়তনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬২ টাকা। মাহমুদ হাসান খানের বার্ষিক আয় ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার, বাসাবাড়ির ভাড়া থেকে ১ কোটি ৭৭ লাখ, শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র থেকে ২ কোটি ১৫ হাজার এবং অন্যান্য উৎস থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিজেকে চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়েছেন মাহমুদ হাসান খান, যেখানে তাঁর বার্ষিক আয় ৮৮ লাখ টাকা।
মাহমুদ হাসান খানের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রী নার্গিস আক্তারের বছরে আয় ২৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। প্রায় ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) অস্থাবর-স্থাবর সম্পদ আছে নার্গিস আক্তারের। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১৬ কোটি টাকা ৩৯ লাখ টাকার। আর স্থাবর সম্পদ ৪৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার। নার্গিস আক্তারের নগদ আছে ১৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর বাইরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ারবাজারে প্রায় ১৬ কোটি টাকা; ৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ৫০ ভরি সোনা (এখন ভরি ২ লাখ টাকার বেশি); আড়াই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং পৌনে ২ লাখ টাকার আসবাব রয়েছে।
মাহমুদ হাসান খান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসন থেকেই বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। এই আসনটি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং সদর উপজেলার তিতুদহ, নেহালপুর, গড়াইটুপি ও বেগমপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। মাহমুদ হাসান খান এমএ পাস। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

