বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কন্টেইনার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ১২টি সেলুলার বক্সশিপ বা কন্টেইনারবাহী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। এই তথ্য পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ প্ল্যাটফর্ম দ্য লোডস্টারের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই জাহাজগুলো কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক কন্টেইনার পরিবহন বাজারে প্রবেশ করবে এবং প্রায় তিন দশক পর বিএসসি কনটেইনার শিপিং খাতে পুনরায় প্রবেশ করবে। বর্তমানে বিএসসি আটটি ওয়েট এবং ড্রাই বাল্ক জাহাজ পরিচালনা করছে এবং সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ পরিচালনা করেছিল।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, কনটেইনার জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সরকার-সরকার ঋণ চুক্তির আওতায় ছয়টি জাহাজ কেনা হবে, যার প্রকল্প ব্যয় হবে প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) অনুমোদন করলে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া বাংলাদেশকে ছয়টি জাহাজ কেনার জন্য ঋণ দেবে।’ মাহমুদুল মালেক আরও বলেন, ‘বিএসসি ইতোমধ্যেই ইডিসিএফের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং বর্তমানে ঋণ প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলে তহবিল বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দেই সান’ অথবা ‘হুন্দাই হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ’ এই জাহাজগুলো নির্মাণ করতে পারে।
তবে বাকি ছয়টি কনটেইনার জাহাজ কোথা থেকে বা কীভাবে কেনা হবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি বিএসসি আরও দুটি বাল্ক জাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে এবং দুটি বাল্ক জাহাজ ও দুটি ক্রুড ট্যাংকার কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির সম্মিলিত পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, তবে গত বছরের শেষের দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কনটেইনার জটের পরিমাণ ছিল ৫৭.৫%, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ছিল অর্ধেক। এর ফলে জাহাজ থেকে মাল খালাসের গতি ধীর হয়ে গেছে। এই সাম্প্রতিক দেরির মূল কারণ হলো ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দরের প্রধান মোটর ও ট্রেইলার অপারেটরদের কর্মবিরতি।
