প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি) একটি শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যেভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানের আয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানই আরও শক্তিশালী হয়, বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা জানান। চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহণ উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএসসির বহরে আরও জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, মেরিন একাডেমির প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী দিয়ে ধরে রাখা জরুরি, যাতে তারা বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করতে পারেন।
ওই সময় কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বিএসসির জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে ছয়টি জাহাজ ক্রয় শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি হয়। এর অর্থায়নে ছিল বাংলাদেশ সরকার ও চীনের চায়না এক্সিম ব্যাংক। সেই ঋণের পরিমাণ ১১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।
ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সরকারের অর্থ বিভাগ ও বিএসসির মধ্যে আরেকটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বিএসসি দুই হাজার ৪২৫.২ কোটি টাকা ১৩ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবে। গ্রেস পিরিয়ডের মোট সুদ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৯ টাকা, যা ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক আকারে হস্তান্তর করা হয়।
