Header – After

বিএনপি প্রার্থীদের ৮৩% কোটিপতি, ৭ জন শতকোটি

হলফনামা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল-এর সম্পদ যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক আরও অন্তত ছয়জন রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর পেশা সাংবাদিকতা ও ব্যবসা হলেও তার সম্পদ ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এছাড়া চাঁদপুর-২ আসনের জালাল উদ্দিনের সম্পদ ২২০ কোটি টাকা, কুমিল্লা-৮ আসনের জাকারিয়া তাহের সুমনের ২০৪ কোটি, শরীয়তপুর-২ আসনের মো. সফিকুর রহমান কিরণের ১৭৭ কোটি, চাঁদপুর-৪ আসনের হারুনুর রশিদের ১৬০ কোটি এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাইদ আহমেদের ১৫০ কোটি টাকা। এ তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যাদের মধ্যে ২৬৯ জনের হলফনামা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ২২৩ জন কোটিপতি, যা মোট প্রার্থীর ৮৩ শতাংশ। কোটি টাকার নিচে সম্পদ আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬।প্রার্থীদের পেশার দিক থেকেও বৈচিত্র্য দেখা গেছে। সর্বোচ্চ ১৭০ জন ব্যবসায়ী, ২৯ জন আইনজীবী, ২৪ জন প্রকৌশলী, ২০ জন শিক্ষক, ১১ জন চিকিৎসক এবং চারজন কৃষিজীবী। চাকরি বা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন আটজন, আর গৃহিণী বা অন্যান্য পেশায় আছেন দুজন। একমাত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন।

এদিকে বার্ষিক আয়ের দিক থেকেও অনেক প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু শুধু অকৃষিজমি খাতেই বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন সাত কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাসের ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতার এক কোটি ৬১ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খানের এক কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ টাকা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আটটি আসনে সমমনা জোট ও শরিক দলগুলোর প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিএনপি। ২৯২টি আসন নিজের জন্য রাখলেও বিএনপি থেকে ৩৩১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় আসন সংখ্যার চেয়ে দলীয় প্রার্থী বেশি হয়েছে। অবশ্য গত রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় দ্বৈত প্রার্থী থেকে একজনকে বেছে নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া বিএনপির অন্তত তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।