** ২০১৯-২০ করবর্ষে আয় গোপন করেছে প্রায় ৮৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
** আয় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা হলেও দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা
বাটারফ্লাই গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এক করবর্ষে একটি খাতে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা আয় গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এই আয়ের বিপরীতে প্রায় ৩১ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেনি। অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই কর পরিহার করেছে। রাজস্ব অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমন অনিয়ম উঠে এসেছে। ওই অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রায় ১০৫ কোটি টাকা হলেও রিটার্নে দেখানো হয়েছে মাত্র ১৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘আপত্তি’ দিয়ে রাজস্ব অডিট অধিদপ্তর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রতিবেদন দিয়েছে। এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাটারফ্লাই গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মজুমদার এফসিএ বিজনেস বার্তাকে বলেন, ‘আইন ও বিধি অনুসারে সব করা হয়েছে। ইচ্ছে করে ফাঁকি দিয়েছে বা দেওয়া হয়েছে-তা কিন্তু নয়।’
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের কম্পোট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয়ের অধীন রাজস্ব অডিট অধিদপ্তর এনবিআরের আওতাধীন তিনটি কর অঞ্চলের অধীনে ১০টি কর সার্কেলের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ২০১৯-২০ করবর্ষের (২০২০ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত) ওপর আয়কর নির্ধারণের সঠিকতা যাচাইয়ের ওপর অডিট ইন্সপেকশন রিপোর্ট (এআইআর) সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অনিয়ম উঠে এসেছে। বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর অঞ্চল-৮, ঢাকার অধীন ১৬২ কর সার্কেলের (কোম্পানিজ) করদাতা প্রতিষ্ঠান।
অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৯-২০ করবর্ষে রিটার্নে আয় দেখিয়েছে ১৭ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ৩৬ টাকা। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘কস্ট অব গুডস সোল্ড’-এ ‘পারচেজ’ বাবদ ৮৭ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৫ টাকা খরচ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই খরচের উপর আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৫২ ধারা ও বিধি ১৬ (বি) অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন করতে হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দাবি করা এই খরচের উপর উৎসে কর কর্তন করেনি। নিরীক্ষার সময় এই খরচের উপর উৎসে কর কর্তনের কোন চালান বা প্রমাণক পাওয়া যায়নি। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ৩০ (এএ) অনুযায়ী, এই ব্যয় অননুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে মোট আয়ের সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই করবর্ষে বাটারফ্লাই ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একটি খাতে ৮৭ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৫ টাকা আয় গোপন করেছে। গোপন করা এই আয়ের উপর ৩৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য কর দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৭২ লাখ ৩৪ হাজার ৮০৭ টাকা; যা প্রতিষ্ঠানটি পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে। এই আয়সহ ২০১৯-২০ করবর্ষে অডিট অধিদপ্তর মোট আয় খুঁজে পেয়েছে ১০৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ৭৭১ টাকা। করদাতা কোম্পানি ৮২ বিবি ধারায় রিটার্ন দাখিল করায় অনিয়মের বিষয়টি পরীক্ষা করে পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অডিট অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিজনেস বার্তাকে বলেন, ‘অডিট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির একটি খাতে যে আয় গোপনের যে আপত্তি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। কর অঞ্চলের যে সার্কেলে কোম্পানির রিটার্ন রয়েছে, তারা তা খতিয়ে দেখবে। যদি এই খাতে আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান কর কর্তন না করে, তাহলে কর দিতে হবে। সঙ্গে আয় গোপনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বাটারফ্লাই গ্রুপ ১৯৮৭ সালে ‘বাটারফ্লাই সুইং মেশিন’ দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। ১৯৯৫ সালে এলজি ব্রান্ড এর যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ‘কমিটেড টু কেয়ার’-স্লোগানে বাটারফ্লাই গ্রুপ এলজি ব্র্যান্ডের টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনসহ গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। বাটারফ্লাই গ্রুপ শুরুতে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি করত। এলজি ও হাইসেন্স ব্র্যান্ডের সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানির পর নিজস্ব চ্যানেলে তা বিক্রি করত। পরে ইকোপ্লাস নামে স্থানীয় ব্র্যান্ড চালু করে।
