সঞ্চয়পত্রে বিক্রির তুলনায় ভাঙানোর পরিমাণ বেশি থাকায় টানা চার অর্থবছর ধরে সরকারের ক্ষেত্রে নতুন ঋণ নেওয়ার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এরপরও প্রতিবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নির্দিষ্ট ঋণ লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়। এবার বাজেট ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে এক লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। মূলত বাজেটের হিসাব মিলানোর প্রয়োজনেই এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা যায়। মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমেছে ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কমেছিল ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা এবং ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ২০২১–২২ অর্থবছরের শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল তিন লাখ ৬৪ হাজার ১০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ৮০৪ কোটি টাকায়।
বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে ঋণ বেড়েছে। এতে ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধে ব্যয় অত্যধিক বেড়েছে। যে কারণে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। এর আগে বিএনপি সরকারের সর্বশেষ ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ হয়। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করছি। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত হবে। অর্থ প্রবাহ বাড়বে এবং এর মাল্টিপ্লায়ার প্রভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অধিকতর গতিশীল হবে।’
