** কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব বাতিল, পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর রাখা হয়েছে
** সাত খাতে ব্যাংক হিসাব খুলতে বিআইএন বাধ্যতামূলক
** করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো ও কর্পোরেট কর কমানো হলো
** ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারিতে টিআইএন লাগবে না
** পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব
** চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে ভ্যাট ছাড়
** মধু আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, অপ্রক্রিয়াজাত কাজু বাদাম আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ
** প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামালে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশই থাকছে
** এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফেব্রিকেটের বিল্ডিং উৎপাদনকারীদের রেয়াতি সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত
** ওটিটি প্লাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ১৫ থেকে কমে ৫ শতাংশ
বির্তকের মুখে অবশেষে কালোটাকা সাদা করার প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ই-টিআইএন নেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যাংক খাতে প্রভাব পড়বে-এমন শঙ্কা থেকেই সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে। এছাড়া বন্টকনামা দলিল ও নামজারি করতে ই-টিআইএন নেয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশে চিংড়ি খাতের প্রসার ও রপ্তানি বাড়াতে ভ্যাটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিক ও বেভারেজ খাতের খরচ কমাতে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হলেও তা থেকে সরে এসেছে সরকার। দেশীয় শিল্পের প্রসারে বিশেষ করে এলইডি ল্যাম্প ও প্রি-ফেব্রিকেট বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি খাতে কর, ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়-অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেন, সংশোধনের মাধ্যমে অর্থবিল পাস করা হয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১ জুন প্রথমবারের মতো অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট আলোচনার সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর–ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন, যা ১১ জুন বাজেট অধিবেশনে উত্থাপন করেছিলেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের নেতারা। সংশোধনী প্রস্তাব ও আলোচনা শেষে অর্থবিল পাস হয়।
আয়কর খাতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী করদাতাদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমা যথাক্রমে ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করের প্রধানমন্ত্রী। এর ফলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা তাদের আয়ের ওপর আগামী অর্থবছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার পরিবর্তে চার লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাবেন। অপরদিকে, স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতে ওই বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই বিষয়টিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখায় প্রস্তাবিত ওই বিধান প্রত্যাহার করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন সংসদ নেতা। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি–ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ছিল। অর্থবিলে সংশোধনী এনে এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে ই-টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি’ সৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের সুপারিশ করেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে শর্ত দিতে হবে যে, কর–সুবিধার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব করতে হবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। বলেন, দেশের তিনটি পার্বত্য জেলায় বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ব্যক্তিদের যে বেতন এবং তাদের আর্থিক পরিসম্পদ খাতে যে অর্জিত আয়-এটা ছাড়া পার্বত্য জেলার পরিচালিত যে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করছি। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ রাখতে চাই যে পার্বত্য জেলার যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আছে, তাদের করমুক্ত আয়ের এই সুবিধাটা আরেকটু বাড়িয়ে তাদের ব্যবসা কৃষি খাতসহ অন্যান্য আয়ের পাশাপাশি বেতনের আয়কেও করমুক্ত করা। এটা পাহাড়ি এবং সমতল উভয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর যারা আছেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ভ্যাট ও কাস্টমস খাতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে
অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রী চিংড়িশিল্পের প্রসার ও রপ্তানি বাড়াতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস, ভিটামিন, মিনারেলস এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া স্থানীয় শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও বেভারেজ খাতের অন্যতম কাঁচামাল পিভিসি (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) ও পিইটি (পলিইথিলিন টেরেফথালেট) রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে এ খাতের কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আবারও ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া কোল্ড-রোলড শিট, রোল প্রোডাক্টের অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক কমাতে বা প্রত্যাহার করতে অনুরোধ জানান তিনি। বৈদ্যুতিক তারের জন্য কপার আমদানিতে ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে অপ্রক্রিয়াজাত কাজু বাদাম আমদানিতে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ কাস্টম শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেন তারেক রহমান। তিনি স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্রি-ফেব্রিকেটের বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী বর্তমানে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, ওটিটি প্লাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং অন্যান্য অনলাইন মিডিয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট থাকায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ না করে অন্যভাবে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে অর্থ পরিশোধ করেন। সেজন্য ওই ব্যক্তির যেমন লাভ হচ্ছে না। একই দিকে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। এ খাতে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। স্বর্ণ বা স্বর্ণ অলঙ্কার বা প্লাটিনামের ক্ষেত্রে প্রতি ভরির উপরে আড়াই হাজার টাকা, ডায়মন্ডের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রাম আড়াই হাজার টাকা এবং রূপার গহনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরি একশ টাকা কর ভ্যাটের যে হার রয়েছে, তা পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বিটিআরসির সঙ্গে টেলিকম কোম্পানিগুলোর রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার, সকল প্রকার মাঠ সরবারহের ক্ষেত্রে যোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। স্থানীয়ভাবে ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ যে ভ্যাট আছে, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।
অপরদিকে, ব্যবসা-বাণিজ্যের ৭টি খাতে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য ব্যবসায় সনাক্তকরণ সংখ্যা (বিআইএন) বা তালিকাভুক্তির প্রমাণক বাধ্যতামূলকভাবে দাখিল করতে হবে। সংশোধিত বিলে বলা হয়েছে, অন্যান্য আইনে যা-ই থাকুক না কেন, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন ব্যাংক বা ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে—বাধ্যতামূলকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিআইএন তালিকাভুক্তির প্রমাণক উপস্থাপন করতে হবে। একইভাবে কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যাংক বা এনবিএফআই বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে, কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য পদ গ্রহণ বা নবায়নের ক্ষেত্রে, কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে এবং বিআরটিএ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন গ্রহণের ক্ষেত্রে—ওই প্রতিষ্ঠানের বিআইএন তালিকাভুক্তির প্রমাণক বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর রাখা হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর সংশোধনী প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর ব্যবধান আরও বাড়ানো। এখন থেকে যে কোনো পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হলেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে। এর পাশাপাশি, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), ডাইরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু অথবা রিপিট পাবলিক অফারের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে অফলোড করলে আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর ছাড় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত উভয় ধরনের কোম্পানি যদি তাদের সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করে, তাহলে অতিরিক্ত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কোনো কোম্পানি যদি শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোডের পাশাপাশি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করে, তবে তাদের করহার অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় মোট ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। বাজেটে জিরোকুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য এতদিন যে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ সীমা ছিল, তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষাপটে কোম্পানি করদাতাদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর করহার কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে তা ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
